CRICKET LIVE STREAMING

Showing posts with label cricket news. Show all posts
Showing posts with label cricket news. Show all posts

Wednesday, May 4, 2011

IPL T20 Teams, Owners, Captians & Coaches

IPL T20 Teams, Owners, Captians & Coaches

Bangalore Royal Challengers

IPL Team Owner: United Breweries Group - Vijay Mallaya
Captain:Daniel Vettori
Coach: Ray Jennings (SA)

Virat Kohli (retained), Zaheer Khan, Saurabh Tiwary, Cheteshwar Pujara, Abhimanyu Mithun, Mohammed Kaif, T Dilshan, A B De Viliers, Daniel Vettori, Dirk Nannes, Charl Langeveldt, Luke Pomersbach, Johan van der Wath, Rile Rossouw, Nuwan Pradeep and Jonathan Vandlar.

Kolkata Knight Riders

IPL Team Owner: Shah Rukh Khan, Juhi Chawla
Captain: Gautam Gambhir
Coach: Dav Whatmore (AUS)

Gautam Gambhir, Yusuf Pathan, Manoj Tiwari, L Balaji, Jaidev Unadkat, Jacques Kallis, Brad Haddin, Shakib Al Hasasn, Brett Lee, Eoin Morgan, Ryan ten Doeschate and James Pattinson

Kings Eleven Punjab

Team Owner: Preity Zinta, Ness Wadia, Mohit Burma
Captain: Adam Gilchrist
Coach: Michael Bevan (AUS)

Dinesh Karthik, Abhishek Nayar, Praveen Kumar, Piyush Chawla, Adam Gilchrist, Shaun Marsh, David Hussey, Stuart Broad, Ryan Harris, Dimitri Mascarenhas and Nathan Rimmington.

Chennai Super Kings

IPL Team Owner: India Cements
IPL Team Captain: MS Dhoni
IPL Team Coach: Stephen Fleming (NZ)

M S Dhoni, Suresh Raina, Murali Vijay, Albie Morkel (all retained), Wriddhiman Saha, R Ashwin, S Badrinath, Joginder sharma, Sudeep Tyagi, Michael Hussey, Dwayne Bravo, Doug Bollinger, scott Styris, Ben Hilfenhaus, Nuwan Kulasekara, Suraj Randiv, George Bailey and Francois Du Plessis.

Buzzintown Quiz
What is(are) the title(s) conferred by the Queen on Princes Williams on the eve of his Royal Wedding?

Delhi Daredevils

IPL Team Owner: GMR Holdings
IPL Team Captain: Virender Sehwag
IPL Team Coach: Greg Shipperd (AUS)

Virender Sehwag (retained), Irfan Pathan, Naman Ojha, Ajit Agarkar, Ashok Dinda, Umesh Yadav, Venugopal Rao, David Warner, James Hopes, Morne Morke l, Aaron Finch, Matthew Wade, Roelof van der Merve, Andrew McDonand, Travis Birt, Colin Ingram and Robert Frylinck.

Rajasthan Royals

IPL Team Owner: Emerging Media, Lachlan Murdhoch
Captain: Shane Warne
Coach: Shane Warne (AUS)

Shane Warne, Shane Watson (both retained), Rahul Dravid, Pankaj Singh, Ross Taylor, Johan Botha, Paul Collingwood and Shaun Tait.

Mumbai Indians

IPL Team Owner: Reliance Industries, Mukesh Ambani
Captain: Sachin Tendulkar
Coach: Robin Singh (IND)

Sachin Tendulkar, Harbhajan Singh, Kieron Pollard, Lasith Malinga (all retained), Rohit Sharma, Munaf Patel, Andrew Symonds, David Jacobs, James Franklin, Clint McKay, Moises Henriques and Aiden Bllzzard.

Deccan Chargers

IPL Team Owner: Deccan Chronicle Holdings
Captain:Kumar Sangakkara
Coach: Darren Lehmann (AUS)

Shikhar Dhawan, Ishant sharma, Pragyan Ojha, Amit Mishra, Manpreet Gony, Kevin Pietersen, Cameron White, Kumar Sangakkara, JP Duminy, Dale Steyn, Daniel Christian, Chris Lynn, Juan Theron and Michael Lumb.

Kochi Tuskers Kerala

IPL Team Owner: Kochi Cricket Pvt Ltd
Captain: Mahela Jayawardene
Coach: Geoff Lawson (AUS)

V V S Laxman, S Sreesanth, R P Singh, Parthiv Patel, Ravindra Jadeja, Ramesh Powar, R Vinay Kumar, Mahela Jayawardene, Brendon McCullum, Steven Smith, M Muralidharan, Brad Hodge, Tisara Perera, Stephen O'Keefe, Owais Shah, Michael Klinger and John Hastings.

Pune Warriors

IPL Team Owner: Sahara Group
Captain: Yuvraj Singh
Coach: Geoff Robert Marsh (AUS)

Yuvraj Singh, Robin Uthappa, Ashish Nehra, Murali Kartik, Graeme Smith, Tim Paine, Agelo Mathews, Nathan McCullum, Callum Ferguson, Wayne Parnell, Mitchell Marsh, Jerome Taylor, Alfonson Thomas and Jesse Ryder.

 ২০ ওভারে ৩০৯!

ক্রিকেটে সব ম্যাচেরই যদি রেকর্ড রাখা হতো, হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ের ফোকাস ক্রিকেট ক্লাব ও এর ব্যাটসম্যান লিটনের নাম রেকর্ড বইয়ে জায়গা পেত নিশ্চিত! সিরাজুল হোসেন খান স্মৃতি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সেমিফাইনালে কাল ফোকাস ক্রিকেট ক্লাব ২০ ওভারে তোলে ৩০৯ রান! লিটন মাত্র ৪৫ বলে করেছেন ১৫০ রান! যার ১৪২ রানই ছক্কা আর চার থেকে, ১৭টি ছক্কা, ১০টি চার! জবাবে সূর্যতরুণ ১৪৯ রানে অলআউট। ফাইনালের পথে ফোকাস ক্লাব জিতেছে ১৬০ রানে।
নারায়ণগঞ্জে এনায়েতদের সংবর্ধনা: জাতীয় ব্যাডমিন্টনে চ্যাম্পিয়ন নারায়ণগঞ্জ জেলা দলের খেলোয়াড়দের সংবর্ধনা দিল নিট কনসার্ন ব্যাডমিন্টন ক্লাব। কাল ক্লাবের ইনডোরে পুরুষ এককের চ্যাম্পিয়ন এনায়েতউল্লাহকে ১০ হাজার টাকা, মহিলা এককের চ্যাম্পিয়ন শাপলা আক্তারকে ৫ হাজার টাকা এবং দ্বৈত ও মিশ্র দ্বৈতে চ্যাম্পিয়নদের ৫ হাজার টাকা করে দিয়েছে ক্লাবটি।
—নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

Monday, May 2, 2011

 যা থাকে আড়ালে রেকর্ড

পরিসংখ্যান নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি আর রেকর্ড নিয়ে আলোচনা ক্রিকেটের মতো এতটা সম্ভবত আর কোনো খেলাতেই হয় না। রেকর্ডের খেলা ক্রিকেটেও এমন কিছু রেকর্ড আছে যেগুলোর ঠিক ‘তারকা ইমেজ’ নেই। গুরুত্ব হয়তো কম নয়, কিন্তু আলোচনা তেমন হয় না, আড়ালে পড়ে থাকে। ক্রিকেটের এমন কিছু রেকর্ডের কয়েকটি মনে করিয়ে দিচ্ছেন আরিফুল ইসলাম

অর্ধেক পথ পেরিয়ে

টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির রেকর্ডটি কার—এটা কোনো প্রশ্নই নয়। ক্রিকেট অনুরাগী মাত্রেরই তা জানা। কিন্তু প্রশ্নটা যদি হয়—টেস্ট ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি হাফ সেঞ্চুরি কার—‘কে যেন’ ‘কে যেন’ বলে মাথা চুলকানো শুরু হয়ে যাবে। টেস্টে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি একসময় যাঁর ছিল, সেই অ্যালান বোর্ডার এখনো টেস্টে সবচেয়ে বেশি হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ডটির মালিক। আর খুব বেশি দিন অবশ্য তা থাকবেন বলে মনে হয় না। কারণ টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়রা তাঁর ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছেন। খুব একটা পিছিয়ে নেই পন্টিং-চন্দরপলও। সেরা পাঁচে না থাকলেও হাফ সেঞ্চুরির রেকর্ড ভাঙার সম্ভাবনাময়দের মধ্যে আছেন জ্যাক ক্যালিসও (৫৪)।

বলের পর বল

যাঁরা জানেন তাঁরা তো অবশ্যই, যাঁরা এখন জানবেন তাঁদেরও অবাক হওয়ার কথা নয়। প্রায় দেড় যুগ শ্রীলঙ্কার বোলিং আক্রমণ প্রায় একা সামলেছেন যিনি, বোলিং করে গেছেন অবিরাম, ঘণ্টার পর ঘণ্টা, ক্লান্তিবিহীন। নতুন বলে, পুরোনো বলে। দিনের শুরুতে, মাঝে, শেষ বিকেলে। টেস্টে সবচেয়ে বেশি বল করার রেকর্ডটা তো মুত্তিয়া মুরালিধরনেরই হওয়ার কথা। বিস্ময়কর শুধু সংখ্যাটা। একবার ঠান্ডা মাথায় ভাবুন, একজন লোক রানআপ নিয়ে একটা একটা করে ৪৪ হাজার বল করছেন! অনুমিতভাবেই পরের দুজনও স্পিনার এবং নাম দুটিও প্রত্যাশিতই—অনিল কুম্বলে ও শেন ওয়ার্ন। ক্ষয়িষ্ণু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলিং আক্রমণ দীর্ঘদিন নিজের কাঁধে বয়ে বেড়ানোর প্রমাণ হিসেবেই যেন পেসারদের মধ্যে সবার আগে কোর্টনি ওয়ালশ। ম্যাকগ্রার দলে উইকেটশিকারির অভাব ছিল না, তার পরও পাঁচে থাকা প্রমাণ করছে অধিনায়কের কত বড় নির্ভরতা ছিলেন তিনি।

গ্রেটনেসের সূচক!

ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টিতে তো বটেই, টেস্টেও এখন ব্যাটসম্যানদেরও স্ট্রাইক রেট নিয়ে কত আলোচনা। বোলারদের স্ট্রাইক রেটটা আড়ালেই পড়ে থাকে। অথচ একজন বোলারের কার্যকারিতা বোঝা যায় এই স্ট্রাইক রেট থেকেই। একটি উইকেট পেতে গড়ে কতটি বল লাগল—এই স্ট্রাইক রেটের হিসাবে সবার ওপরে জর্জ লোহম্যান। মাত্র ১৮ টেস্টে ইংলিশ পেসারের ১১২ উইকেট, ৯ বার ইনিংসে ৫ উইকেট, ম্যাচে ১০ উইকেট ৫ বার। প্রতিটি উইকেটের জন্য লোহম্যানের লেগেছে গড়ে ৩৪.১ বল! লোহম্যানের কৃতিত্ব আরও পরিষ্কার হবে আধুনিক গ্রেটদের সঙ্গে তুলনা টানলেই। টেস্টে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি মুরালিধরনের স্ট্রাইক রেট ৫৫, শেন ওয়ার্নের ৫৭.৪, অ্যামব্রোসের ৫৪.৫, ওয়াসিম আকরামের ৫৪.৫। চোট ঝামেলা না বাধালে শেন বন্ড নিজেকে কোথায় নিয়ে যেতেন কিংবা ডেল স্টেইন যে ‘গ্রেট’ হওয়ার পথে, এটাও জানিয়ে দেবে স্ট্রাইক রেটের তালিকা।

একবারও ব্যাট না তুলেই!

ক্যারিয়ারজুড়ে ব্যাটসম্যানদের আতঙ্ক হয়ে থাকা ওয়াকারের একটা ব্যাটিং রেকর্ডও আছে। ফিফটি না করে টেস্টে এক হাজার রান করার একমাত্র কীর্তি পাকিস্তানের বর্তমান কোচের। ৪০-এর ঘরে একটিই রান। ১৯৯৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ৪৫। ওয়াকারের পরের চারজনই এই তালিকায় আছেন স্রেফ ‘দুর্ভাগ্যে’, সবারই সর্বোচ্চ ইনিংসটা যে অপরাজিত! ইংলিশ ফাস্ট বোলার ট্রুম্যান ফিফটির সুযোগ পাননি দল ইনিংস ঘোষণা করে দেওয়ায়, বাকিরা সতীর্থদের ব্যর্থতায়। তালিকার পাঁচে যিনি, সেই ওয়ালশ আবার আরেকটা ব্যাটিং-কীর্তিতেও অমর হয়ে আছেন। ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বেশি শূন্য (৪৩)!

বুড়ো বয়সে

ক্রিকেট খেলতেন মনের আনন্দে। ১৮৭৭ সালে জেমস লিলিহোয়াইটের ইংল্যান্ড দলের হয়ে অস্ট্রেলিয়া সফরে গিয়েছিলেন জেমস সাউদারটন। মেলবোর্নে দুটি ম্যাচও খেললেন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে। কিন্তু ‘টেস্ট’ ম্যাচ বলে কিছুর অস্তিত্ব ছিল না তখন। তিন বছর পর সাউদারটন চলে গেলেন ওপারের জগতে। আরও পরে ধারণা এল টেস্ট ক্রিকেটের, মেলবোর্নের ওই ম্যাচ দুটিকেই ধরে নেওয়া হলো প্রথম দুই টেস্ট। সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড বুকের দুটি পাতায় জায়গা হয়ে গেল সাউদারটনের। মৃত্যুকে উইকেট দেওয়া প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার তিনি, এই রেকর্ড ভাঙবে কীভাবে? অন্য রেকর্ডটিকেও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘অমর’ ঘোষণা করে দেওয়া যায়। টেস্ট শুরুর দিন তাঁর বয়স ছিল ৪৯ বছর ১১৯ দিন, সবচেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট অভিষেকের এই রেকর্ড ভাঙবে না কোনো দিনই। সাউদারটনের সবচেয়ে কাছাকাছি গিয়েছিলেন মিরন বখশ। ক্যারিয়ারের সেরা সময়টায় তো জাতীয় দলে খেলতেই পারেননি, অভিষেকটা আর বছর দেড়েক পরে হলে ‘অমর’ হয়ে যেতেই এই অফ স্পিনারও!

এত দিন পর আবার!

জন্ম এক দেশে, টেস্ট খেলেছেন অন্য দুটি দেশের হয়ে। জন ট্রাইকস টেস্ট ইতিহাসে একমেবাদ্বিতীয়ম। আরেকটা অস্বাভাবিক কীর্তিতেও তিনি সবাইকে ছাড়িয়ে। জন্ম মিসরে, বেড়ে উঠেছেন দক্ষিণ আফ্রিকায়। তাদের হয়েই টেস্ট অভিষেক ১৯৭০ সালে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা তিন টেস্ট খেলে মাত্র ৪ উইকেট। এরপরই বর্ণবাদের কারণে নিষিদ্ধ হয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। ১৯৯২ সালে জিম্বাবুয়ে যখন টেস্ট স্ট্যাটাস পেল, সেখানে পাড়ি জমানো ট্রাইকসের বয়স তখন ৪৫। জিম্বাবুয়ের অভিষেক টেস্ট দিয়ে আবার ফিরলেন এই অফ স্পিনার, মাঝখানে পেরিয়ে গেছে ২২ বছর ২২২ দিন! বিশ্ব রেকর্ড! এবার প্রথম টেস্টেই ৫ উইকেট, ভালো করলেন পরের ৪ টেস্টেও। কিন্তু ব্যবসায়িক ব্যস্ততায় ছাড়লেন খেলা। এমন নানা রকম গল্প আছে এই রেকর্ডের তালিকায় থাকা প্রায় সবারই। ১১তম টেস্ট খেলার প্রায় ১৮ বছর পর জর্জ গান ১২তম টেস্ট খেললেন, বয়স তখন ৫১ ছুঁই ছুঁই! ডন ক্লেভারলি অভিষেক টেস্টে উইকেটশূন্য থাকার পর বাদ পড়লেন। ১৪ বছর পর ফিরে আবার উইকেটশূন্য, এবার ক্যারিয়ারই শেষ!

চারের রাজা

১৯৮৯ সালের ১৬ নভেম্বর করাচিতে ওয়াকার ইউনুসকে দিয়ে শুরু, সর্বশেষটি গত ৪ জানুয়ারি কেপটাউনে মরনে মরকেলকে। মাঝের ২৮৮ ইনিংসে শচীন টেন্ডুলকার কতগুলো চার করেছেন, সেটা বলার সাধ্য নেই কারও। কারণ ১৯৯০ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে চণ্ডীগড় টেস্টে ১১ রানের ইনিংসটায় কটি চার মেরেছিলেন বা আদৌ মেরেছিলেন কি না, সেই হিসাব নেই। টেন্ডুলকারের মোট চারের পাশে তাই একটা ‘যোগ’ চিহ্ন। হিসাব না থাকায় অবশ্য ক্ষতি খুব একটা হয়নি, টেস্টে সর্বোচ্চ রানের মতো চার মারাতেও টেন্ডুলকারের ধারেকাছে নেই কেউ। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলা ছেড়েছেন অনেক দিন। ‘কাছাকাছি’ থাকা অন্যদের ক্যারিয়ারও এখন গোধূলিতে। টেন্ডুলকারের এই রেকর্ড ভাঙতে তাই হয়তো প্রয়োজন হবে টেন্ডুলকারের মতো কোনো একজনকে!

বুড়োর সেঞ্চুরি

প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৯৯* সেঞ্চুরি—এই একটা কীর্তিই তাঁকে অমর করে রাখার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু শুধু কি এই? প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ৬১ হাজার রান, টেস্টে ৫৭ ছুঁইছুঁই গড়, ক্রিকেট রূপকথায় ঢুকে যাওয়া হাবার্ট সাটক্লিফের সঙ্গে ওপেনিং জুটি, নাইটহুড পাওয়া প্রথম পেশাদার ক্রিকেটার—স্যার জ্যাক হবসের অমরত্বের দাবি আরও অনেক কারণেই। কম আলোচিত স্মরণীয় কীর্তিও আছে আরেকটি। ‘দ্য মাস্টার’ হিসেবে পরিচিত ওপেনার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ সেঞ্চুরিটা করেছিলেন ১৯২৯ অ্যাশেজে, মেলবোর্নে; যেটি শুরুর সময় হবসের বয়স ছিল ৪৬ বছর ৮২ দিন, তাঁর চেয়ে বেশি বয়সে টেস্ট সেঞ্চুরি করতে পারেননি আর কেউ। চল্লিশোর্ধ্ব বয়সে সর্বশেষ সেঞ্চুরির বয়সও ১৭ হতে চলল (১৯৯৪ সালে গ্রাহাম গুচ)। ১৯৯ সেঞ্চুরির মতো হবসের এই রেকর্ডটিকেও তাই চিরস্থায়ী বলে ঘোষণা করে দেওয়াই যায়!
* অ্যাসোসিয়েশন অব ক্রিকেট স্ট্যাটিকশিয়ান কিছুদিন আগে সিলোন সফরে হবসের দুটি সেঞ্চুরিকেও প্রথম শ্রেণীর বলে রায় দেওয়ায় ১৯৭ থেকে হবসের সেঞ্চুরির সংখ্যা এখন ১৯৯।

এমনও আউট

টেস্ট ক্রিকেটে সাড়ে তিন শ রানের ইনিংস খেলা প্রথম ব্যাটসম্যান তিনি। তাঁর ৩৬৪ টেস্টের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল ২০ বছর ধরে। লারা-হেইডেন-সোবার্সদের সৌজন্যে লেন হাটন এখন ছয়ে। তবে এমন কীর্তি তাঁর আছে, টেস্ট ইতিহাসেই যার নজির দ্বিতীয়টি নেই। ১৯৫১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওভাল টেস্ট জয়ের জন্য চতুর্থ ইনিংসে ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৬৩ রান। ফ্রাঙ্ক লোসনকে নিয়ে ৫০ মিনিটেই ৫৩ তুলে ফেলেছিলেন হাটন। অ্যাথোল রোয়ানের একটি বল হঠাৎ লাফিয়ে উঠল। ঠিকমতো খেলতে পারেননি হাটন, গ্লাভসে লেগে হাতের ওপর দিয়ে গড়িয়ে বল পড়ে যাচ্ছিল। উইকেটকিপার রাসেল এনডিন আবার ছুটে আসছিলেন তাঁকে ক্যাচ বানাতে। মুহূর্তের মধ্যে কী হয়ে গেল, ব্যাট দিয়ে বলটি সরিয়ে দিলেন হাটন। ফিল্ডারদের আবেদনে আঙুল তুলে দিলেন আম্পায়ার ডাই ডেভিস, টেস্ট ইতিহাসের একমাত্র অবস্ট্রাকটিং দ্য ফিল্ড আউট! অস্বাভাবিক আউটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ‘স্বাভাবিক’ হ্যান্ডলড দ্য বল, মোট সাতজন এর শিকার। তালিকায় আছে বাংলাদেশের পরোক্ষ উপস্থিতিও। ২০০১ সালে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলতে খেলতে বিরক্ত হয়েই হোক আর পরের ব্যাটসম্যানদের সুযোগ দিতে, ইচ্ছে করে উইকেট ছেড়ে চলে এসেছিলেন মারভান আতাপাত্তু ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। টেস্ট ক্রিকেটের অভিধানে যুক্ত হয়েছে রিটায়ার্ড আউট!

ক্লান্তিহীন, বিরামহীন

অতিরিক্ত ক্রিকেটের চাপেই হোক আর শৃঙ্খলার অভাবে, নেটে বা অনুশীলনেও ইনজুরিতে পড়ে যান অনেক ক্রিকেটার। বিশ্রাম আর বাদ পড়া তো আছেই। অথচ খুব বেশি আগের ঘটনা নয়, টানা ১৫৩ টেস্ট খেলেছেন অ্যালান বোর্ডার! ১৯৭৮-৭৯ অ্যাশেজে অভিষেক, টানা তিন টেস্ট খেলে সুবিধা করতে না পারায় শেষ টেস্টে বাদ। জীবনে ওই একবারই। পরের টেস্টেই ফিরেছেন, টানা খেলে গেছেন ক্যারিয়ারের শেষ দিনটি পর্যন্ত! মার্ক ওয়াহ আর অ্যাডাম গিলক্রিস্ট তো টানাই খেলে গেছেন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত। টানা টেস্ট খেলার তালিকায় প্রথম কোনো পেসারকে পাওয়া যাচ্ছে ১৮ নম্বরে। তবে সেই পেসার, কপিল দেব আসলে থাকতে পারতেন তালিকার দুইয়ে! অভিষেকের পর টানা ৬৬ টেস্ট খেলার পর বাজে শট খেলার শাস্তি হিসেবে কপিলকে পরের টেস্টে বাদ দেওয়া হয়। ফেরার পর আবার টানা ৬৫ টেস্ট খেলেছেন, মানে বিতর্কিতভাবে বাদ না পড়লে হতো টানা ১৩১ টেস্ট!

দাদার পর নাতি

ক্যারিয়ারে টেস্ট খেলেছেন চারটি। কোনো ফিফটি নেই, নেই কোনো উইকেটও। তার পরও দু-দুটি বিশ্ব রেকর্ডের মালিক! এই ‘সৌভাগ্যবান’ বা ‘দুর্ভাগ্যবানের’ নাম যযুর্বেন্দ্র সিং। ব্যাটিং-বোলিংয়ে কিছু করতে পারেননি, কিন্তু ফিল্ডিং আছে না! অভিষেক টেস্টের প্রথম ইনিংসেই ৫ আর ম্যাচে ৭ ক্যাচ নিয়েছিলেন গুজরাটের অলরাউন্ডার। এককভাবে অবশ্য নয়, দুটি রেকর্ডই ছুঁয়েছিলেন যযুর্বেন্দ্র। ইনিংসে ৫ ক্যাচ নিয়ে ভিক রিচার্ডসনের, ক্রিকেটীয় কীর্তির চেয়েও যিনি বেশি পরিচিত বিখ্যাত নাতিদের কারণে। তাঁর তিন নাতির নাম—ইয়ান, গ্রেগ ও ট্রেভর, বিখ্যাত ‘চ্যাপেল ব্রাদার্স!’ প্রথম ইনিংসে ৫ ক্যাচ নিয়ে যযুর্বেন্দ্র ছুঁয়েছিলেন দাদাকে, পরের ইনিংসে দুটি নিয়ে ছুঁয়েছিলেন নাতি গ্রেগ চ্যাপেলের ম্যাচে সবচেয়ে বেশি ক্যাচের রেকর্ডকে!

Sunday, May 1, 2011

 আইপিএলের দলগুলো সোনার ডিমপাড়া হাঁস


ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) অংশগ্রহণকারী দলগুলো নিয়ে সবার মধ্যেই কৌতূহল রয়েছে। কৌতূহল দলগুলোর লাভ-লোকসান এবং এতে বিনিয়োগের উদ্দেশ্য নিয়ে। এই যে শাহরুখ খান তাঁর ব্যস্ত শিডিউল ফেলে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ম্যাচগুলোতে উপস্থিত থাকছেন, এতে তাঁর লাভ কী? আসলে লাভ তিনি করেই ফেলেছেন আইপিএলে একটি দলের মালিক হয়ে। কিছু টাকা বিনিয়োগ করে তিনি নিজের করে নিয়েছেন একটি সোনার ডিমপাড়া হাঁস। সাফল্য আসুক আর নাই আসুক ওই হাঁস প্রতিনিয়ত সোনার ডিম দিয়ে যাচ্ছে (পড়ুন কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা)।
ভারতের একটি প্রাতিষ্ঠানিক গবেষণা কেন্দ্র (আইআইএফএল) সম্প্রতি আইপিএলে অংশ নেওয়া দলগুলোর লাভ-লোকসানের একটি খতিয়ান তৈরি করেছে। যা প্রকাশিত হয়েছে ভারতীয় প্রখ্যাত সাময়িকী ইন্ডিয়া টুডেতে। গবেষণা ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে তারা দেখিয়েছে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া দলগুলো আসলে কখনোই ক্ষতির মুখে পড়ে না। যে ক্ষতির ব্যাপারটি ঘটে সেটা হলো ‘লাভ কম হওয়া’। এর বাইরে দলগুলোর কোনো ব্যবসায়িক ক্ষতি নেই।
গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, আইপিএলের সবচেয়ে ব্যবসাসফল দলের এক মৌসুমে আয় হয় ১০৮ কোটি রুপি। প্রায় ৬৫ কোটি রুপি বিনিয়োগ করে তারা এই পরিমাণ আয় করেছে। অর্থাত্ লাভ ৪৩ কোটি রুপি। অন্যদিকে যে দলটি অপেক্ষাকৃত কম লাভ করে তার অঙ্কটাও নেহাতই মন্দ নয়। তার লাভ ১৮ কোটি রুপি। ৯৫ কোটি রুপি খরচ করে দলটির হাতে আসে ১১৪ কোটি রুপি। লাভ-ক্ষতির পার্থক্যটা কেবল ‘লাভ বেশি হওয়া বা কম হওয়া’র মধ্যেই সীমিত।
আইপিএলে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে অন্যান্য রাজস্ব ভাগাভাগি হয় বিভিন্ন অনুষঙ্গ বিচার করে। হতে পারে সেই দলটির খেলোয়াড়দের তারকামূল্য বেশি, হতে পারে সেই দলটির মালিকই বড় একজন তারকা। টেলিভিশন স্বত্ব বাবদ শচীন টেন্ডুলকারের মুম্বাই ইন্ডিয়ানস যে অর্থ কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পাবে, পুনে ওয়ারিয়র্স কিংবা দিল্লি ডেকান চারজার্সের প্রাপ্ত অর্থ নিশ্চয়ই এক হবে না। কারণ টেন্ডুলকারের তারকামূল্য অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে অনেক বেশি। আইপিএলে সবচেয়ে লাভজনক একটি দল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে টেলিভিশন স্বত্ব বাবদ পায় ৬৮ কোটি রুপি। এ ছাড়া তারা কেন্দ্রীয় স্পনসরশিপ থেকে ১১ কোটি রুপি, টিম স্পনসরশিপ থেকে ১৫ কোটি রুপি, স্টেডিয়ামের টিকিট বিক্রি বাবদ ১০ কোটি রুপি, স্টেডিয়ামের বিজ্ঞাপন বিলবোর্ড থেকে আড়াই কোটি রুপি পেয়ে থাকে। এর পাশাপাশি প্রাইজমানির ভাগ এক কোটি রুপি তো রয়েছেই।
এখন আসা যাক আইপিএলের মোট ব্র্যান্ডমূল্যের আলোচনায়। চতুর্থ আসরে এই প্রতিযোগিতার ব্র্যান্ডমূল্য কমে গেছে প্রায় ৪৬ কোটি ডলার। ২০১০ সালে যেখানে আইপিএলের ব্র্যান্ডমূল্য ছিল ৪১ কোটি ৩০ লাখ ডলার, সেখানে ২০১১ সালে এটি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ব্র্যান্ডমূল্যধারী দল হচ্ছে মুম্বাই ইন্ডিয়ানস। তাদের মূল্য ৫ দশমিক ৭১৩ কোটি ডলার। এর পরপরই রয়েছে চেন্নাই সুপার কিংসের অবস্থান। তাদের ব্র্যান্ডমূল্য ৫ দশমিক ৫৩৭ কোটি ডলার। বিজয় মালিয়ার বেঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জার্সের ব্র্যান্ডমূল্য ৪ দশমিক ৭৫৮ কোটি ডলার। চতুর্থ স্থানে রয়েছে শাহরুখ খানের কলকাতা নাইট রাইডার্স। কেকেআরের ব্র্যান্ডমূল্য ৪ দশমিক ৬০৫ কোটি ডলার।
আইপিএলে ব্র্যান্ডমূল্যের দিক দিয়ে সর্বনিম্ন স্থানে থাকা দুটি দল হচ্ছে শিল্পা শেঠির রাজস্থান রয়েলস ও প্রীতি জিনতার কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব। বিশ্বমন্দা ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক অর্থনৈতিক কারণে আইপিএলের চতুর্থ আসর ব্যবসায়িক দিক দিয়ে কিছুটা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হলেও ভারতের বিশ্বকাপ জয় এবারের আইপিএল নিয়ে অনেককেই আশাবাদী করে তুলেছে। ব্র্যান্ডমূল্য কমলেও টেলিভিশন সম্প্রচার স্বত্বের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আইপিএলে এবার অনেকটাই বাণিজ্যিকভাবে সফল হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Saturday, April 23, 2011

শচীন টেন্ডুলকার- মাস্টার থেকে ব্লাস্টার

১৬
- ১১ বছর : জাইল শিল্ডে প্রথম ব্যাট হাতে নামলেন খোজা খান স্কুলের হয়ে আজাদ ময়দানে। ওই ম্যাচে করলেন মাত্র ২৪ রান। এটাই শচীনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ।
- ১২ বছর : নিজের স্কুলের অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে খেলতে নেমে হ্যারিস শিল্ডে করেন প্রথম সেঞ্চুরি। এটাই তার জীবনে প্রথম সেঞ্চুরি দেখা।
-১৩ বছর : জাইল শিল্ডে স্বপ্নের ব্যাটিং। ৭টি সেঞ্চুরি করেন নিজের স্কুলের হয়ে। এর মধ্যে ছিল একটি ডাবল সেঞ্চুরিও।
- ১৪ বছর : বন্ধু বিনোদ কাম্বলির সঙ্গে নিজের স্কুলের হয়ে বিখ্যাত ৬৬৪ রানের সেই জুটিটি করেছিলেন ১৪ বছর বয়সেই। ১৪ বছর বয়সেই ১৯৮৭ বিশ্বকাপে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলার পর সুনীল গাভাস্কারের কাছ থেকে উপহার পেয়েছিলেন একজোড়া প্যাড।
- ১৫ বছর : মাত্র ১৫ বছর বয়সেই অভিষেক হলো প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে এবং অভিষেকেই মুম্বাইয়ের হয়ে গুজরাটের বিপক্ষে করলেন সেঞ্চুরি।
- ১৬ বছর : মাত্র ১৬ বছর বয়সেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে এবং টেস্টে অভিষেক ঘটে শচীন টেন্ডুলকারের।
- ১৭ বছর : ১৯৯০ সালে ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। খেলেছিলেন ১১৯ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস।
- ১৮ বছর : ১৮ বছর ৩০৪ দিনে ভারতের হয়ে সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে খেললেন বিশ্বকাপ। ১৯৯২ সালে।
- ১৯ বছর : দেশের বাইরে প্রথম কাউন্টি ক্রিকেটে (ইয়র্কশায়ারে) নাম লেখালেন শচীন। এ সময় আবার সবচেয়ে কম বয়সী ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টে একহাজার রান পূর্ণ করেন তিনি।
-২০ বছর : নিজেদের মাটিতে প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা পান শচীন। মাদ্রাজে (বর্তমানে চেন্নাই) ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২৪টি চার এবং একটি ছক্কায় তিনি করেন ১৬৫ রান।
- ২১ বছর : দীর্ঘ বিরতির পর ওয়ানডেতে পেলেন প্রথম সেঞ্চুরির দেখা। শ্রীলংকার মাটিতে কলম্বোয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেন এ সেঞ্চুরি।
- ২২ বছর : মাত্র ২২ বছর বয়সেই ওয়ার্ল্ডটেলের সঙ্গে করলেন ৩১.৫ কোটি রুপির চুক্তি। ওই সময়ই শচীনকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্রিকেটারে পরিণত করেছিল এ চুক্তি।
-২৩ বছর : ১৯৯৬ বিশ্বকাপে হলেন সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ৮৭.১৬ গড়ে করেছিলেন ৫২৩ রান। এর কিছুদিন পরই হলেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক।
- ২৪ বছর : ১৯৯৭ সালে এক মৌসুমে ওয়ানডে এবং টেস্টে একহাজারেরও বেশি করে রান নিলেন শচীন। ক্রিকেট ইতিহাসে যা খুবই বিরল ঘটনা।
-২৫ বছর : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শারজায় পরপর দুটি সেঞ্চুরি করলেন শচীন। এর একটি আবার ছিল শচীনের জন্মদিনে।
- ২৬ বছর : ১৯৯৯ সালে আহমেদাবাদে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করলেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরি।
-২৭ বছর : টেস্ট এবং ওয়ানডে মিলে ৫০তম সেঞ্চুরি করলেন ২৭ বছর বয়সে; যখন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে নাগপুরে ২০১ রান করেছিলেন তিনি।
- ২৮ বছর : ওয়ানডে ক্রিকেটে ১০ হাজার রান পূর্ণকারী প্রথম ক্রিকেটার হয়ে গেলেন শচীন রমেশ টেন্ডুলকার।
-২৯ বছর : স্যার ডন ব্রাডম্যানের ২৯ টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ড পার হয়ে গেলেন শচীন ২৯ বছর বয়সে।
-৩০ বছর : ২০০৩ বিশ্বকাপে ৬১.১৮ গড়ে সর্বোচ্চ ৬৭৩ রান করেন তিনি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো এক আসরে এটাই সর্বোচ্চ।
- ৩১ বছর : ঢাকার মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে সর্বোচ্চ স্কোর করেন তিনি। এ ম্যাচে ২৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন শচীন।
-৩২ বছর : টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৩৪টি সেঞ্চুরির মালিক সুনীল গাভাস্কারের সমতায় উঠে এলেন ৩২ বছর বয়সে।
- ৩৩ বছর : ক্যারিয়ারে একমাত্র আন্তর্জাতিক টোয়েন্টি২০ ম্যাচটি খেলেন ৩৩ বছর বয়সে এবং তিনিই হলেন ভারতীয় দলে সবচেয়ে বেশি বয়সী টি২০ ক্রিকেটার।
- ৩৪ বছর : ওয়ানডে ক্রিকেটে প্রথম ১৫ হাজার রান অতিক্রমকারী ব্যাটসম্যান হলেন তিনি এবং একই সঙ্গে টেস্টে ১১ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
- ৩৫ বছর : টেস্ট ক্রিকেটে ব্রায়ান লারার সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৯৫৩ রানের রেকর্ড অতিক্রম করে যান শচীন।
- ৩৬ বছর : হায়দরাবাদে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেন ১৭৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। একই সময় ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৭ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি।
-৩৭ বছর : গোয়ালিয়র হয়ে রইল একটি ইতিহাসের সাক্ষী। শচীনের ব্যাট থেকেই প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পেল ওয়ানডে ক্রিকেট।

গড় পারিশ্রমিকে দুইয়ে আইপিএল

মাত্র চতুর্থ বর্ষে পড়েছে আইপিএল, বছরে খেলাও হয় মাত্র ছয় সপ্তাহ। কিন্তু খেলোয়াড়দের সাপ্তাহিক গড় পারিশ্রমিকের দিক থেকে আইপিএল এখন ক্রীড়াবিশ্বে দ্বিতীয়! স্পোর্টিং ইন্টেলিজেন্স ডটকমের তথ্য, সাপ্তাহিক পারিশ্রমিকের গড়ে বিশ্বে ভারতের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টটির ওপরে আছে কেবল যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় বাস্কেটবল লিগ এনবিএ। বিভিন্ন খেলার ১৪টি শীর্ষ লিগের ২৭২টি দলের পারিশ্রমিক বিশ্লেষণ করে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে স্পোর্টিং ইন্টেলিজেন্স। জরিপটি তারা করেছে ইএসপিএন দ্য ম্যাগাজিন-এর সঙ্গে যৌথভাবে।
সর্বশেষ মৌসুমে এনবিএর ৩০ দল খেলোয়াড়দের গড়ে পারিশ্রমিক দিয়েছে বছরে ৪৭ লাখ ৯০ হাজার মার্কিন ডলার, সাপ্তাহিক হিসাবে যেটা দাঁড়ায় ৯২ হাজার ১৯৯ মার্কিন ডলার। সপ্তাহে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক দেওয়া তিন দলের কোনোটিই অবশ্য এনবিএ বা আইপিএলের নয়। সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেয় স্পেনের লা লিগার দল বার্সেলোনা, ঠিক পেছনেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ। মেজর লিগ বেসবলের (এমএলবি) দল নিউইয়র্ক ইয়াঙ্কিস আছে তিনে। আইপিএলে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক দেওয়া দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু আছে তালিকার ২৬ নম্বরে, সপ্তাহে ৮৬,৬৬৭ মার্কিন ডলার পারিশ্রমিক দেয় বিজয় মালিয়ার দল। ২৯ নম্বরে থাকা কলকাতা নাইট রাইডার্স দেয় ৮৫,৫৪৫ মার্কিন ডলার। সেরা পঞ্চাশে আছে আইপিএলের আরও দুই দল—কিংস ইলেভেন পাঞ্জাব (৪০) ও মুম্বাই ইন্ডিয়ানস (৪৪)।
ওয়েবসাইট।

Tuesday, April 19, 2011

 অতিমানবীয়!


স্যার ডন ব্র্যাডম্যানের অবিনশ্বর গড়ের (৯৯.৯৪) মতো এমন কিছু রেকর্ড আছে, যেগুলো কোনো দিন ভাঙবে কি না বলা কঠিন। এমন কিছু রেকর্ড নিয়েই এই প্রতিবেদন
লেকারের ১৯
৯০ রানে ১৯ উইকেট—১৯৫৬ অ্যাশেজের ওল্ড ট্রাফোর্ড টেস্টে ইংলিশ অফ স্পিনার জিম লেকারের চোখ ধাঁধানো বোলিং ফিগার। স্পিন-সহায়ক উইকেটে বাঁহাতি স্পিনার টনি লক কেন মোটে একটা উইকেট পেয়েছিলেন, এটা বিস্ময়কর। কিংবা হয়তো বিস্ময়কর, কীভাবে ওই একটা উইকেট পেয়েছিলেন! লক যখন উইকেটটা পান, তখনো লেকারের ঝুলিতে মোটে ২ উইকেট। এরপর প্রথম ইনিংসে ৯ উইকেট নিলেন ৩৭ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ রানে ১০ উইকেট। অর্ধশতাব্দীর বেশি পেরিয়ে গেছে, হয়ে গেছে আরও দেড় হাজার টেস্ট ম্যাচ, কিন্তু ম্যাচে ১৬ উইকেটের বেশি আর নিতে পারেনি কেউ। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটেও পারফেকশনের এত কাছে কেউ যেতে পারেনি। লেকারের রেকর্ড কখনো ভাঙবে না, এটা নিয়ে তাই নিশ্চিন্তে বাজি ধরতে পারেন!

বয়সের হাফ সেঞ্চুরি

কোনো ৫০ বছর বয়সী টেস্ট খেলবে, এটা বললে লোকে নিশ্চিতভাবেই পাগল ভাববে। এই যুগে এটা অকল্পনীয়। আর এই যুগেই বা কী, সর্বশেষ বয়সের হাফ সেঞ্চুরিয়ানদের টেস্টে দেখা গেছে তো সেই ১৯২৯-৩০ মৌসুমে! ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের শেষ টেস্টে জ্যামাইকায় একসঙ্গে খেলেছিলেন টেস্টের সর্বকালের বয়োজ্যেষ্ঠ ক্রিকেটার উইলফ্রেড রোডস ও জর্জ গান। ম্যাচের শেষ দিন রোডসের বয়স ছিল ৫২ বছর ১৬৫ দিন, গানের ৫০ বছর ৩০৩ দিন। ওই টেস্টে ইতিহাস গড়েছেন ক্লিফোর্ড রোচও, রোডসের বলে গানের হাতে ক্যাচ, আউট হয়েছেন ১০৩ বছরের জুটির হাতে! এখন তো ৪০ বছর বয়সী কাউকে পাওয়াই বিরল। টেন্ডুলকার কোথায় থামবেন জানা নেই, তবে ৫০ নয় নিশ্চিতভাবেই!

মুরালির ৮০০

সত্তুরের দশকের শুরুর দিকেও বোঝা যায়নি, ফ্রেড ট্রুম্যানের পর টেস্টে কেউ ৩০০ উইকেট পেতে পারেন। নব্বই দশকের মাঝামাঝি পর্যন্তও ৩০০ উইকেট ছিল বিশেষ এক অর্জন। মুত্তিয়া মুরালিধরন নিজেকে এমন এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন যে ৩০০ উইকেটকেও এখন আর অসাধারণ অর্জন বলে মনে হয় না! মুরালির রেকর্ড টিকে থাকবে, এটা বলায় অবশ্য সামান্য ঝুঁকি থাকছে। ৩১ বছর বয়সী হরভজন সিংয়ের উইকেট ৩৯৩টি। তবে এটা সত্যি, মুরালির ধারেকাছে যেতে হলেও বিশেষ কিছু করতে হবে হরভজন ও অন্যদের।

সেঞ্চুরির ‘প্রায়’ ডাবল সেঞ্চুরি

স্যার জ্যাক হবসের সেঞ্চুরির তালিকাটার দিকে তাকালে নিশ্চয়ই আধুনিক ক্রিকেটারদের চোখ কপালে উঠতে থাকে! ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টির ‘যন্ত্রণা’ ছিল না, অনায়াসেই এক মৌসুমে ৩০টি বা তার বেশি ম্যাচ খেলেছেন, খেলেছেন প্রায় ৫২ বছর বয়স পর্যন্ত। ৮৩৪ প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৬১,৭৬০ রান ও ১৯৯ সেঞ্চুরি। অবশ্য তাঁর দুটি সেঞ্চুরির প্রথম শ্রেণীর স্ট্যাটাস নিয়ে সংশয় আছে, তার পরও তো ১৯৭! বর্তমানে খেলছেন এমন ক্রিকেটারদের মধ্যে তাঁর সবচেয়ে কাছাকাছি আছেন মার্ক রামপ্রকাশ। বয়স হয়ে গেছে ৪১, হবসের ১৯৭ ছুঁতেও প্রয়োজন আর ‘মাত্র’ ৮৪টি সেঞ্চুরি! হবস অবশ্য এত সব সেঞ্চুরির চেয়েও বড় বলে মানতে পারেন আরেকটি প্রাপ্তিকে। মানুষ হিসেবে ছিলেন অসাধারণ, তাঁর সম্পর্কে একটা বাজে কথা কোনো দিন বলতে পারেননি কোনো সতীর্থ বা প্রতিপক্ষের কেউ!

টিচের ট্রিপল সেঞ্চুরি

একই কথা আবার বলতে হয়। ব্যাটিংয়ে নয়, এটা বোলিংয়ে ট্রিপল সেঞ্চুরি। ইংলিশ মৌসুমে ১০০ উইকেট নেওয়াই এখন বিরল। গত মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি আন্দ্রে অ্যাডামসের উইকেট ছিল ৬৮টি। ১৯২৮ সালে কেন্টের লেগ স্পিনার টিচ ফ্রিম্যান নিয়েছিলেন ‘মাত্র’ ৩০৪ উইকেট! অবাক হচ্ছেন তো? বিস্ময়ের বাকি আছে আরও। পরের সাত মৌসুম টানা পেয়েছিলেন দুশর বেশি উইকেট! ৩৭৭৬ প্রথম শ্রেণীর উইকেট নিয়ে ক্যারিয়ার শেষ করেছেন, প্রথম বিশ্বযুদ্ধ বাগড়া না দিলে হয়তো উইলফ্রেড রোডস থাকতেন তালিকার দুইয়ে!

টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি

শচীন টেন্ডুলকারের শততম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরির অপেক্ষায় আছে পুরে ক্রিকেট বিশ্বই। কোথায় গিয়ে থামবেন কে জানে! সে ভাবনায় গিয়ে তাই লাভ নেই। এখনই তাঁর ৫১ টেস্ট আর ৪৮ ওয়ানডে সেঞ্চুরি; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯৯ সেঞ্চুরি আর কেউ কখনো করতে পারবেন কি না কে জানে। এই মুহূর্তে তো কোনো সম্ভাবনাই দেখা যাচ্ছে না। রেকর্ডে টেন্ডুলকারের নিকটতমেরাও যোজন যোজন পেছনে—রিকি পন্টিংয়ের ৬৯ ও জ্যাক ক্যালিসের ৫৭।

লারার ৫০১

ছোঁয়া অসম্ভব এমন রেকর্ডের তালিকায় সবচেয়ে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এটাই। হানিফ মোহাম্মদ ৪৯৯ রানে কাটা পড়ার পর রেকর্ডটা যখন দীর্ঘদিন টিকে রইল, একপর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ইনিংসে অর্ধহাজার রান কেউ কোনো দিন করতে পারবেন না। কিন্তু ক্রিকেট দেখল একজন ব্রায়ান লারাকে। এই রেকর্ড ভাঙা খুবই সম্ভব। কিন্তু এখন যে ধরনের ক্রিকেট হচ্ছে, তাতে ৫০২ করতে প্রয়োজন ক্রমাগত মেরে যাওয়া এবং একই সঙ্গে ধৈর্য। লারার মতো, কিন্তু লারা কি আর প্রতিদিনই জন্মায়!

রোডসের চার হাজার

চার হাজার শুনলে রানের কথাই মনে হয়, ভাবা যায়, কেউ চার হাজার উইকেটও নিয়েছেন! অবিশ্বাস্য কাজটি উইলফ্রেড রোডস করেছেন বাঁহাতে! ৩০ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে এক থেকে এগারো—সব পজিশনে ব্যাটিং করেছেন, ৫৮ টেস্টে দুই হাজারের বেশি রান আর ১২৭ উইকেট। আর ৩২ বছরের প্রথম শ্রেণীর ক্যারিয়ারে ১১১০টি, ভুল পড়ছেন না, ১১১০টি ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ৪২০৪ উইকেট! ২০০৭ সালে হাজার উইকেট হয়েছিল ইংলিশ স্পিনার রকার্ট ক্রফটের। এ ছাড়া উইকেটে চার অঙ্ক ছোঁয়ার কথা নিকট অতীতে আর শোনা যায়নি!

কম্পটনের সোনালি মৌসুম

ক্যারিয়ারে ১৮ সেঞ্চুরি হলেও বর্তে যান অনেকে। ডেনিস কম্পটন শুধু ১৯৪৭ সালেই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে করেছিলেন ১৮ সেঞ্চুরি আর ৩৮১৬ রান! ৩০টি ম্যাচ খেলেছিলেন কম্পটন, পেয়েছিলেন ৫০ ইনিংস। এখনকার ক্রিকেটাররা পান না এর অর্ধেকও। রেকর্ডটাও তাই নিরাপদ!

ভেরিটির দশে দশ

১৯৩২ সালের জুলাইয়ে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ইয়র্কশায়ারের বাঁহাতি স্পিনার হেডলি ভেরিটি যা করেছিলেন, সেটাকে এককথায় বলা যায় অবিশ্বাস্য। বোলিং ফিগারটা একবার দেখুন, চোখ দুটোকে সামলে রাখুন, কপালে উঠে যেতে পারে। ১৯.৪-১৬-১০-১০, মানে ১০ রানে ১০ উইকেট! অনুমান করার জন্য কোনো পুরস্কার নেই, এটাই প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে সেরা বোলিং। ঢেকে রাখা উইকেট, বিশ্বজুড়ে ব্যাটিং উইকেটের ছড়াছড়ি, টেলএন্ডারদের ব্যাটিংপ্রীতি—সব মিলিয়ে হেডলির রেকর্ড কেউ কেড়ে নেবে, ভাবলেও হাস্যকার লাগে!

রো-র ‘ডাবল’ অভিষেক

১৩৪ বছর আর ১৯৯১টি ম্যাচের টেস্ট ইতিহাসে অভিষেক টেস্টের দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছেন মাত্র দুজন। এঁদের মধ্যে একজন আবার করেছেন ডাবল সেঞ্চুরি আর সেঞ্চুরি। ১৯৭২ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে কিংস্টন টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ওপেনার লরেন্স রোর এই কীর্তির কাছাকাছি যেতে পেরেছিলেন কেবল একজনই। ২০০৩ সালে অভিষেকে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৭০ ও ১০৫ করেছিলেন পাকিস্তানের ওপেনার ইয়াসির হামিদ। অভিষেকে সেঞ্চুরিটাই তো বিশাল অর্জন। সেখানে দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি, একটি আবার ডাবল—একটু বেশিই বেশি!

Tuesday, April 12, 2011

 বিশ্বকাপ রেকর্ড


সবচেয়ে বেশি ম্যাচে অধিনায়ক
অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং এবার সাতটি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করে ছাড়িয়ে গেছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন ফ্লেমিংকে (২৭)। বিশ্বকাপে অধিনায়ক পন্টিংয়ের ম্যাচ ২৯টি।

সর্বোচ্চ সেঞ্চুরি

এবার দুটি সেঞ্চুরি করে শচীন টেন্ডুলকার বিশ্বকাপে সর্বাধিক সেঞ্চুরির রেকর্ডের একক মালিক হয়েছেন। বিশ্বকাপে তাঁর মোট সেঞ্চুরির সংখ্যা ৬।

ইনিংসে সর্বোচ্চ স্ট্রাইক রেট

নিউজিল্যান্ডের জেমস ফ্রাঙ্কলিন কানাডার বিপক্ষে ৮ বলে করেন অপরাজিত ৩১ রান, যার স্ট্রাইক রেট ৩৮৭.৫০। বিশ্বকাপে কমপক্ষে ২৫ রানের ইনিংসগুলোর মধ্যে স্ট্রাইক রেটের দিক দিয়ে এটিই সেরা।

সর্বোচ্চ জুটি

প্রথম উইকেটে শ্রীলঙ্কার থারাঙ্গা ও দিলশান (২৮২) এবং ষষ্ঠ উইকেটে আয়ারল্যান্ডের কেভিন ও’ব্রায়েন ও অ্যালেক্সই কুসাক (১৬২) বিশ্বকাপের নতুন রেকর্ড করেছেন।

ম্যাচে সর্বোচ্চ রান

ভারত ও ইংল্যান্ডের টাই ম্যাচটিতে দুই দল সবশুদ্ধ রান করেছে ৬৭৬। আগের রেকর্ডটি ছিল অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার। ২০০৭ বিশ্বকাপে এই দুই দলের ম্যাচে উঠেছিল ৬৭১ রান

Thursday, March 31, 2011

 রেকর্ড কর্নার বিশ্বকাপের ফাইনাল

বিশ্বকাপ ক্রিকেটের ফাইনালে সবচেয়ে বেশি ছয়বার খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। সর্বোচ্চ ৪টি ফাইনাল খেলেছেন রিকি পন্টিং ও গ্লেন ম্যাকগ্রা। তবে সর্বোচ্চ ৩ বার অধিনায়ক ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড। সবচেয়ে বেশি রান করেছেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, তিন ফাইনালে ২৬০। সর্বোচ্চ ইনিংসটিও তাঁর ১৪৯ গত বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। বোলিংয়ে সবার আগে জোয়েল গার্নার ও গ্লেন ম্যাকগ্রা। ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান গার্নার ২ ম্যাচে ও ম্যাকগ্রা ৪ ম্যাচে পেয়েছেন ৬ উইকেট। ১৯৭৯ বিশ্বকাপে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গার্নারের ৩৮ রানে ৫ উইকেট ফাইনালের সেরা বোলিং। সবচেয়ে বড় দলীয় ইনিংসটি ২০০৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ৩৫৯। সর্বনিম্ন ইনিংসটি পাকিস্তানের ১৩২, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। ২০০৩ সালে তৃতীয় উইকেটে ডেমিয়েন মার্টিন ও রিকি পন্টিংয়ের অপরাজিত ২৩৪ রান বিশ্বকাপ ফাইনালের সবচেয়ে বড় জুটি।

 শোয়েব ক্যারিয়ারের উত্থান-পতন

১৯৯৬: বাজে আচরণের কারণে সাহারা কাপের দল থেকে বাদ। এক বছরের জন্য পিছিয়ে গেল আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক।
১৯৯৭: নভেম্বরে নিজ শহর রাওয়ালপিন্ডিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক।
১৯৯৮: ফেব্রুয়ারি—মার্চে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়ে অবদান রাখলেন প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়ে।
১৯৯৯: কলকাতায় শচীন টেন্ডুলকারকে করা সেই বিখ্যাত দুটি বল। এরপর বিশ্বকাপেও কেটেছে দারুণ। বছরের শেষে তাঁর বোলিং অ্যাকশনের জন্য নো বল ডাকেন আম্পায়াররা।
২০০০: বোলিং অ্যাকশন বৈধ ঘোষিত হলেও বিভিন্ন ইনজুরিতে প্রায় সারা বছরই মাঠের বাইরে ছিলেন।
২০০১: বোলিং অ্যাকশনের জন্য আবারও নো বল। তবে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা কোনো ক্রুটি খুঁজে পাননি তাঁর অ্যাকশনে।
২০০২: প্রথমবারের মতো স্পিডগানে ১০০ মাইল ওঠে শোয়েবের কল্যাণে। জিম্বাবুয়েতে দর্শককে বোতল ছুড়ে এক ম্যাচে নিষিদ্ধ। অভিযোগ ওঠে বল টেম্পারিংয়েরও।
২০০৩: বিশ্বকাপে খারাপ করায় দল থেকে বাদ। মে মাসে বল টেম্পারিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ। পল অ্যাডামসকে গালি দিয়ে আবারও নিষিদ্ধ। ১১ উইকেট নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দেন ওয়েলিংটন টেস্টে।
২০০৪: অধিনায়ক ইনজামাম ইনজুরির ভান করার অভিযোগ করলেন আখতারের বিরুদ্ধে। পরে মেডিকেল বোর্ড নিশ্চিত করে ইনজুরিটা ভান ছিল না।
২০০৬: চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে ডোপ পরীক্ষায় পজিটিভ হয়ে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ। অবশ্য পরে তুলে নেওয়া হয় নিষেধাজ্ঞা।
২০০৭: বিশ্বকাপের আগে কোচ বব উলমারের সঙ্গে বিরোধ। সুযোগ পেলেন না বিশ্বকাপে। আসিফের সঙ্গে মারামারি করে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হতে দেশে ফেরত। ১৩ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ।
২০০৮: কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে বোর্ডের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ।
২০১০: প্রায় এক বছর পর দলে ফিরে আসেন শ্রীলঙ্কা সফরে।
২০১১: বিশ্বকাপে বাজে বোলিং, অবসরের ঘোষণা।

Sunday, March 20, 2011

শোয়েবের স্মরণীয় কিছু ম্যাচ

পাকিস্তানের বহুল আলোচিত ও সমালোচিত পেসার স্পিড স্টার সোয়েব আকতার তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টানলেন। অর্থাত্ এই বিশ্বকাপের পর আর তাকে মাঠে দেখা যাবে না, দেখা যাবে না তার গতিময় বলের ঝলকানি। পড়তে হবে না কোনো সমালোচনার মুখে। রাওয়াল পিণ্ডি এক্সপ্রেস-খ্যাত এই পেসার এরই মধ্যে ক্যারিয়ারের ১৩টি বছর পার করে দিলেন। এই দীর্ঘ তেরো বছরে তিনি আন্তর্জাতিক ওডিআই ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৬৩টি আর টেস্ট খেলেছেন মাত্র ৪৬টি। ১৬৩টি ওডিআই ম্যাচ থেকে উইকেট নিয়েছেন ২৪৭টি। আর ৪৬টি টেস্ট থেকে উইকেট নিয়েছেন ১৭৮টি। রাওয়াল পিণ্ডি এক্সপ্রেস-খ্যাত সোয়েব আকতারের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় ১৯৯৭ সালে নিজ শহর রাওয়াল পিণ্ডিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। তখন দলের অধিনায়ক ছিলেন আরেক কিংবদন্তি বোলার ওয়াসিম আকরাম।
সোয়েব প্রথম বিশ্বকাপ খেলেন ১৯৯৯ সালে সপ্তম বিশ্বকাপ ইংল্যান্ডে। এই বিশ্বকাপেই সোয়েব সবার নজরে আসেন। কোনো ব্যাটসম্যানই তার জন্য খেলতে পারছিলেন না তখন। সোয়েব বিশ্বকাপটিতে মোট উইকেট নেন ১৬টি। আর তার বোলিং নৈপুণ্যের ওপরই ভর করে পাকিস্তান ’৯৯-এর বিশ্বকাপে ফাইনালে ওঠে। এর পর থেকে সোয়েবকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। উদ্যমের সঙ্গে শুধু সামনে এগিয়েছেন। সোয়েব তখনই ১০০ মাইল বেগে বল করে রেকর্ড গড়েন। এ রেকর্ড আজ অবধি কেউ স্পর্শ করতে পারেননি। তাছাড়া এই গতির রাজা সোয়েব বিভিন্ন সময় দলকে একাই জয়ের রথ দেখিয়েছেন। ফিরে তাকানো যাক টেস্ট ও ওয়ানডেতে সোয়েবের ক্যারিয়ার সেরা কয়েকটি ম্যাচের দিকে। ১৯৯৯ সালে এশিয়ান টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের বিরুদ্ধে ৭১ রানে চার উইকেট। ওই টেস্ট সিরিজে কলকাতার ইডেন গার্ডেনে দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ভারত প্রায় জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছিল। বল হাতে নিলেন সোয়েব আকতার। পরপর দুই বণে আউট করে দিলেন রাহুল দ্রাবিড়কে ও ক্রিকেট বরপুত্র শচীন টেন্ডুলকারকে। ওই টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি চারটি উইকেট নিয়ে দলকে জয় এনে দেন।
’৯৯-এর বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৫৫ রানে ৫ উইকেট
সোয়েব আকতারের প্রথম বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের এ ম্যাচটিতে সোয়েব তার বলের বেগ দেখিয়েছিলেন। প্রত্যেকটি বল তিনি ৯০ মাইল বেগে ছাড়ছিলেন। ম্যাচটিতে তার অগ্নিময় বলের প্রথম শিকার হন নাথান অ্যাস্টল, দ্বিতীয় শিকার হন স্টিফেন ফ্লেমিং এবং তৃতীয় শিকার হন ক্রিস হেরিস। ফলে নিউজিল্যান্ডের রান ৭ উইকেটে ২৪১ রানে গিয়ে থেমে পড়ে। ফলে ম্যাচটি জিততে পাকিস্তানের কোনো বেগ পেতে হয়নি। লাহোর টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ১১ রানে ৬ উইকেট টেস্ট ক্যারিয়ারে এই ম্যাচটিই তার সেরা পারফরম্যান্স। কিউইরা ব্যাট করতে নেমে ৬৪৩ রানের এক রানের পাহাড় দাঁড় করিয়ে দেয় পাকিস্তানের জন্য। ফলে প্রথম ইনিংসে এ রান তাড়া করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেতে হয় পাকিস্তানকে।
দ্বিতীয় ইনিংস সোয়েব কিউইদের বিরুদ্ধে বলহাতে জ্বলে ওঠেন। মাত্র ১১ রান দিয়ে ছয়-ছয়টি উইকেট তুলে নেন তিনি। ফলে ২য় ইনিংসে মাত্র ৭৩ রানে কিউইদের ইনিংস গুটিয়ে যায়। ফলে হাতছাড়া ম্যাচটিতে সোয়েব আকতারের জন্য জয় পায় পাকিস্তান।
২০০২ সালে ব্রিজবেনে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ২৫ রানের ৫ উইকেট
এই ম্যাচটি সোয়েবের ওজিআই ক্যারিয়ারে অন্যতম সেরা একটি ম্যাচ। ওই দিন ড্যারেন লেহমান, মাইকেল ভেবান ও রিকি পন্টিংয়ের মতো ব্যাটসম্যানরা সোয়েব আকতারের বোলের গতি সম্পর্কে টের পেয়েছিলেন। অনেকটা অসহায়ের মতো তারা সোয়েবের গতির কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। ফলে মাত্র ৯১ রানে গুটিয়ে যায় অজিদের ইনিংস।
ওই সফরেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এক টেস্ট ম্যাচে সোয়েব মাত্র ২৫ রানে নিয়েছিলেন ৫ উইকেট।
২০০৩ সালে ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩০ রানে ৬ উইকেট
সোয়েব আকতার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে সব সময়ই মনে হয় ভালো করতেন। কেবল ব্যতিক্রম হলো এবারের বিশ্বকাপে তাদের গ্রুপ পর্যায়ের পঞ্চম ম্যাচটি। ম্যাচটিতে সোয়েব কোনো সফলতাই দেখাতে পারেননি। যা হোক, ২০০৩ সালের ওয়েলিংটনে এক টেস্ট ম্যাচে সোয়েব আকতার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পুরোদমে এক যমে পরিণত হয়েছিলেন কিউইদের জন্য।
মাত্র ৩০ রানে তিনি ঐ টেস্ট ম্যাচটিতে নিয়েছিলেন ছয়-ছয়টি উইকেট। ফলে অসহায়ের মতো করে পরাজয় বরণ করতে হয় পাকিস্তানের কাছে। এসব ম্যাচ ছাড়াও সোয়েবের আরও অনেক স্মরণীয় ম্যাচ আছে।
উল্লেখ্য, সোয়েব আকতারের টেস্ট ক্যারিয়ার শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পাকিস্তান ১১৫টি টেস্ট খেলেছে। সোয়েবের অংশগ্রহণে খেলা হয়েছে ৪৬টি টেস্ট। এর মধ্যে দল জয় পেয়েছে ২০টি টেস্ট ম্যাচে এবং হেরেছে ১৬টি টেস্ট ম্যাচে। সোয়েবের অংশগ্রহণ ছাড়া দল ১৯৯৭ সাল থেকে এ পর্যন্ত টেস্ট ম্যাচ খেলেছে ৬৯টি। এর মধ্যে হেরেছে ২৮টি টেস্ট ম্যাচে এবং জয় পেয়েছে ২০টি টেস্ট ম্যাচে।
সুতরাং পরিসংখ্যানই বলে দিচ্ছে সোয়েব দলে কত প্রয়োজনীয় পেসার।
১৪ বছরের ক্যারিয়ারে সোয়েব অধিকাংশ সময়ই ইনজুরিতে আক্রান্ত ছিলেন। তাছাড়া বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অভিযোগে তিনি অভিযুক্ত হন। ফলে থাকতে হয়েছে দলের বাইরে। বিশ্বকাপের পর থেকে তাকে হয়তো আর কোনো অভিযোগ তাড়িয়ে বেড়াবে না। ক্রিকেট বিশ্বে শেষ হবে সোয়েব নামের এক ঝলসানো গতির অধ্যায়ের।

শেষ হলো অজিদের রূপকথার গল্প

অবশেষে থেমে গেল বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার রূপকথার গল্প। সেই যে রূপকথায় আছে না, রাজপুত্র চলেছে...চলেছে...চলেছে...কোত্থাও থামছে না—সে রকম অনেকটা। ১৯৯৯ সাল থেকে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচেও না হেরে তিন তিনবার ট্রফি জিতে নিয়ে গেল নিজেদের ঘরে ওই অজিরা। কেউ তাদের গায়ে একটা ফুলের টোকাও দিতে পারল না। চতুর্থবারও সে উদ্দেশ্যে উপমহাদেশে আগমন পন্টিংদের। গ্রু্রপ পর্বের প্রথম পাঁচটি ম্যাচের একটিতেও না হেরে শেষ ম্যাচ পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে হেরে গেল ৪ উইকেটে। অর্থাত্ টানা ৩৪ ম্যাচ জিতে ৩৫তম ম্যাচটিতে এসে নিজেদের ফের মাটিতে আবিষ্কার করল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
চলতি বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচটা জিম্বাবুয়েকে দিয়েই শুরু করেছিলেন পন্টিংরা। ম্যাচের শুরুতেই অজি ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা ধরা পড়ে গিয়েছিল। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ২৯২ তুললেও ১৮ ওভার পর্যন্ত রান রেট ছিল ওভারপ্রতি মাত্র ৩-এর আশপাশে। অ্যাশেজে হারের পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৬-১ ম্যাচে সিরিজ জিতে নিজেদের দুর্ধর্ষ প্রতিপন্ন অবশ্য করেই ছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে নিজেদের চেয়ে কম শক্তির দলগুলোর সামনে বাঘ হয়ে দাঁড়ালেও সমশক্তির পাকিস্তানের কাছে ঠিকই ধরা খেয়ে গেল। অবশ্য কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচটা বৃষ্টিতে ধুয়ে না গেলে ধরা খাওয়ার ব্যাপারটা ঘটত আরও দুই ম্যাচ আগেই।
অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, ম্যাথু হেডেন, মার্ক ও স্টিভ ওয়া, শেন ওয়ার্ন, গ্লেন ম্যাকগ্রা...মনে হয়, একেকটা নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল নাম ছিল অজি ক্রিকেটাকাশে। আজ অস্তমিত সেসব তারার ঝিলিক অজি সমর্থকদের চোখে শুধুই নস্টালজিক বিবর্ণতা। পন্টিংদের সে অতিমানবীয় প্রোফাইল এখন আর দশটা ক্রিকেট খেলুড়ে দেশের পর্যায়ে। ১৯৯৯ সাল থেকে শুরু হয়েছিল যে অপরাজেয় অভিযাত্রা, গত পরশু কলম্বোয় ৪ উইকেটের হার দিয়ে ঘটল তার পরিসমাপ্তি।
একনজরে অস্ট্রেলিয়ার টানা ৩৪টি জয়ের বিশ্বকাপ ম্যাচ
বিশ্বকাপ ১৯৯৯ : ১. বাংলাদেশের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় (২৭ মে) ২. ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় (৩০ মে) ৩. ভারতের বিপক্ষে ৭৭ রানের জয় (৪ জুন) ৪. জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৪৪ রানের জয় (৯ জুন) ৫. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় (১৩ জুন) ৬. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচ টাই (১৭ জুন) ৭. পাকিস্তানের বিপক্ষে ফাইনালে ৮ উইকেটে জিতে বিশ্বকাপ ট্রফি জয় (২০ জুন)।
বিশ্বকাপ ২০০৩ : ৮. পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮২ রানের জয় (১১ ফেব্রুয়ারি) ৯. ভারতের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জয় (১৫ ফেব্রুয়ারি) ১০. নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ৭৫ রানের জয় (২০ ফেব্রুয়ারি) ১১. জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সাত উইকেটে জয় (২৪ ফেব্রুয়ারি) ১২. নামিবিয়ার বিপক্ষে ২৫৬ রানের জয় (২৭ ফেব্রুয়ারি) ১৩. ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২ উইকেটে জয় (২ মার্চ) ১৪. শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৬ রানের জয় (৭ মার্চ) ১৫. নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৬ উইকেটে জয় (১১ মার্চ) ১৬. কেনিয়ার বিপক্ষে ৫ উইকেটে জয় (১৫ মার্চ) ১৭. শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৪৮ রানের জয় (১৮ মার্চ) ১৮. ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে ১২৫ রানে জিতে বিশ্বকাপ ট্রফি জয় (২৩ মার্চ)।
বিশ্বকাপ ২০০৭ : ১৯. স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ২০৩ রানের জয় (১৪ মার্চ) ২০. নেদারল্যান্ডসের বিরুদ্ধে ২২৯ রানের জয় (১৬ মার্চ) ২১. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৮৩ রানের জয় (২৪ মার্চ) ২২. ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ১০৩ রানের জয় (২৭-২৮ মার্চ) ২৩. বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ উইকেটে জয় (৩১ মার্চ) ২৪. ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় (৮ এপ্রিল) ২৫. আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ৯ উইকেটে জয় (১৩ এপ্রিল) ২৬. শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৭ উইকেটে জয় (১৬ এপ্রিল) ২৭. নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২১৫ রানের জয় (২০ এপ্রিল) ২৮. দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় (২৫ এপ্রিল) ২৯. ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ডাক/লুইস পদ্ধতিতে ৫৩ রানে জিতে বিশ্বকাপ ট্রফি জয় (২৮ এপ্রিল)।
বিশ্বকাপ ২০১১ : ৩০. জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯১ রানের জয় (২১ ফেব্রুয়ারি) ৩১. নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় (২৫ ফেব্রুয়ারি) ৩২. শ্রলীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ পরিত্যক্ত (৫ মার্চ) ৩৩. কেনিয়ার রিরুদ্ধে ৬০ রানের জয় (১৩ মার্চ) ৩৪. কানাডার বিপক্ষে ৭ উইকেটে জয় (১৬ মার্চ)।
১৯ মার্চ পাকিস্তানের বিপক্ষে ৩৫তম ম্যাচ খেলতে গিয়ে কলম্বোয় ধরাশায়ী হলেন পন্টিংরা। আর ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হওয়া টানা জয়ের প্রথম ম্যাচ থেকে শুরু করে হারের এই প্রথম ম্যাচটি পর্যন্ত প্রতিটি ম্যাচই খেলেছেন ২০০৩ সাল থেকে এখনো পর্যন্ত অধিনায়ক রিকি পন্টিং।

Sunday, February 27, 2011

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ টাই : ভারত : ৩৩৮/১০, ইংল্যান্ড : ৩৩৮/৮

বিশ্বকাপের চলতি আসরে সবচেয়ে হট ফেবারিট দল হিসেবে স্বাগতিক ভারতকেই মেনে নিয়েছিল সবাই। প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে ৮৭ রানের বড় জয় তুলে নিয়ে ক্রিকেটবোদ্ধাদের সেই ধারণা আরও উজ্জ্বল করেছিল ধোনির দল। তাই গতকালও ব্যাঙ্গালোরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে স্বাগতিকদেরই ফেবারিট ধরে নিয়েছিল সবাই। কিন্তু ইংলিশদের বিরুদ্ধে ফেবারিট হয়েও জয়ের দেখা পায়নি মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। তবে হারতেও হয়নি তাদের। ড্র নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছে তাদের। ফুটবলে অহরহ ‘ড্র’র ঘটনা ঘটে। কিন্তু ক্রিকেটে এমন ঘটনা সত্যিই অনেক কম। ক্রিকেটে ‘ড্র’ মানেই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচ। গতকাল চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে হয়েছেও তাই। দু’দলের এই লড়াইটা সত্যিই উপভোগ্য হয়ে ওঠে। দারুণ জমজমাট এক লড়াই হয়েছে। শচীনের সেঞ্চুরির পর এন্ড্রু স্ট্রসের সেঞ্চুরি দু’দলের এই লড়াইটা জমিয়ে তোলে। দুই ম্যাচ শেষে ভারতের ঝুলিতে এখন তিন পয়েন্ট। সমান সংখ্যক ম্যাচ খেলা ইংল্যান্ডও ৩ পয়েন্ট নিয়ে স্বাগতিকদের সঙ্গেই আছে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে আগে ব্যাট করে ভারত সব উইকেট হারিয়ে শচীন টেন্ডুলকারের সেঞ্চুরি (১২০), যুবরাজ (৫৮) ও গাম্ভিরের (৫১) হাফ সেঞ্চুরিতে ৩৩৮ রানের বিগ স্কোর গড়ে মহেন্দ্র সিং ধোনির দল। কিন্তু রানের এই বিশাল পাহাড় গড়েও ম্যাচে জয় তুলে নিতে পারেনি শচীন-শেবাগরা। শচীনের সেঞ্চুরি ম্লান করে দিয়ে ইংলিশ অধিনায়ক এন্ডু্র স্ট্রস ১৫৮ রান তুলে নিয়ে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন। তিনি ছাড়াও টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান ইয়ান বেলের করা হাফ সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ইংলিশরা ৮ উইকেট হারিয়ে ৩৩৮ রান তুলে নিয়ে ভারতের সঙ্গে পয়েন্টে ভাগ বসায়।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ক্যাপ্টেনের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না সেটা খুব দ্রুতই বুঝে গেল ভারতীয় সমর্থকরা। কারণ, ক্রিজে দাঁড়িয়ে ওপেনার শেবাগ যেভাবে ব্যাট চালালেন তাতে আত্মতুষ্টিতেই ভুগেছে ভারতীয় শিবির। লিটল মাস্টার খ্যাত শচীনকে সঙ্গে নিয়ে ইংলিশ বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালাল এই বিগ হিটার। দু’দিন অনুশীলনের সময় বাঁ পায়ের মাসলে হাল্কা আঘাত পেলেও তার কোনো প্রভাবই দেখা যায়নি ম্যাচে। বরং স্বভাবসুলভ খেলাই খেলেছেন শেবাগ। দুই পেসার এন্ডারসন ও শেহজাদাকে নিয়ে মেতে ওঠেন ছেলেখেলায়। ইন সুইং কিংবা আউট সুইং কোনো বলেই থামানো যাচ্ছিল না তাকে। অবশ্য শেবাগের ঠিক বিপরীত চরিত্র রূপায়ণ করেছেন শচীন। তিনি খেলেছেন একেবারেই ঠাণ্ডামাথায়। শচীনের স্কোর লাইনটা দেখলেই বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে। শেবাগ যখন ব্রেসনানের বলে উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো ম্যাচ প্রিয়রের তালুবন্দি হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন তখন শচীনের রান মাত্র ১০। এই রান তুলতে তিনি খরচ করেছেন ২১ বল। বীরেন্দ্র শেবাগ মাত্র ২৬ বলে অর্ধডজন চার দিয়ে নিজের ইনিংস সাজান। শেবাগের বিদায়ের পর গৌতম গাম্ভিরকে সঙ্গে নিয়ে রানের চাকা সচল করেন শচীন। তবে এবার তিনি স্ব-মূর্তিতে ফেরেন। প্রতিপক্ষের বোলারদের নির্মমভাবে শাসন করতে শুরু করেন। ঠাণ্ডমাথার সেই শচীনকে এবার অগ্নিমূর্তিতে দেখেন ইংলিশ বোলাররা। সুপারসনিক গতিতে রান এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন এই ওপেনার। শচীনের সঙ্গে জুটি গড়ে গাম্ভির দলের স্কোরে ১৩৪ রান জমা করে ব্যক্তিগত ৫১ রান তুলে নিয়ে সাজঘরে ফিরে যান। তিনি ৬১ বলে পাঁচ বাউন্ডারি দিয়ে নিজের ইনিংস সাজান। গাম্ভির ফিরে গেলেও শচীনকে আটকাতে পারেনি ইংলিশ বোলাররা। এরপর শচীন টেন্ডুলকার যুবরাজকে সঙ্গে নিয়ে নিজের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে যান। তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৪৭তম সেঞ্চুরি। তিনি ১০৩ বলের খরচায় ৮ বাউন্ডারি এবং চারটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে নিজের শতরান পূর্ণ করেন। সেঞ্চুরির সঙ্গে আরও ২০ রান জমা করে এই লিটল মাস্টার এন্ডারসনের বলে ইয়ার্ডের ক্যাচে পরিণত হয়ে সাজঘরে ফিরে যান। দশটি চার ও পাঁচটি ছয় দিয়ে ১১৫ বলে নিজের ইনিংসের ফুলঝুরি সাজান শচীন টেন্ডুলকার। চেন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে শচীন ও গাম্ভিরের পর জ্বলে ওঠে যুবরাজের ব্যাটও। মিডল অর্ডারের এই ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৫৮ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তবে ভারতের মিডল অর্ডারের আর কোনো ব্যাটসম্যান তেমন সফল না হওয়ায় ভারতের ইনিংস থামে ৩৩৮ রানে। সব উইকেট হারিয়ে ৪৯.৫ বলে এই রান সংগ্রহ করে তারা। এদিন ভারতের বিপক্ষে বল হাতে সফলতা পেয়েছেন ইংলিশ অল রাউন্ডার টিম ব্রেসনান। তিনি পুরো দশ ওভার বল করে ৪৮ রানের বিপরীতে পেয়েছেন ৫ উইকেট।
জয়ের জন্য ৩৩৯ রানের লক্ষ্যে মাঠে নেমে ইংল্যান্ডও আক্রমণাত্মক হয়ে খেলতে থাকে। দুই ওপেনার অধিনায়ক এন্ড্রু স্ট্রস ও কেভিন পিটারসেন জহির খান-মুনাফ প্যাটেলদের বল নির্দয়ভাবে খেলতে শুরু করেন। তাদের ব্যাটিং তাণ্ডবে লাইন হারিয়ে ফেলে বিশ্বসেরা এই পেসারদের বল। তবে ৬৮ রানে পিটারসেনকে মুনাফ প্যাটেল নিজের বলে নিজেই তালুবন্দি করে ভারতীয় শিবিরে কিছুটা স্বস্তি ফিরিয়ে আনেন। ৪৩ রান পর স্পিনার পিযূষ চাওলা ওয়ান ডাউনে মাঠে নামা ট্রটকে প্যাভিলিয়নের পথ ধরালেও স্ট্রস এবং ইয়ান বেল হতাশ করেন ভারতীয়দের। এই জুটি আবারও স্বাগতিক বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলতে শুরু করেন। এই জুটি ক্ষিপ্রতার সঙ্গে খেলে সব সময়ই দলের রান রেট ৬-এর ওপরে রাখেন। ইংলিশ দলনায়ক স্ট্রস ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির দেখা পান মাত্র ৯৯ বলে। ১৩টি চারের মারে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন এই ওপেনার। আর ইয়ান বেল নিজের হাফ সেঞ্চুরি তুলে নেন ৪৫ বলের খরচায়। এই জুটি ১৭০ রান করার পর পেসার জহির খান ভয়ঙ্কররূপ ধারণ করে ফিরে আসেন ইংলিশদের সামনে। যেখানে প্রথম স্পেলে ৭ ওভার বল করে জহির খান ৫৩ রান দিয়ে এক উইকেটের দেখাও পাননি। সেখানে নিজের অষ্টম ওভার করতে এসে অধিনায়কের আস্থার জবাব দেন এই পেসার। ওভারের চতুর্থ ও পঞ্চম বলে তুলে নেন ইয়ান বেল (৬৯) ও ওপেনার এন্ডু্র স্ট্রসের (১৫৮) উইকেট। নবম ওভারে আবাও জ্বলে ওঠেন জহির খান। এবার তার শিকার পল কলিং উড। পর পর দুই ওভারে তিন মারকুটে ব্যাটসম্যানকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দিয়ে নিশ্চিত হারের মুখ থেকে দলকে ফিরিয়ে আনেন জহির খান। কিন্তু ম্যাচ জমে ওঠে ইনিংসের ৪৯তম ওভারে। শেষ দুই ওভারে ইংলিশদের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। বল হাতে আসনে স্পিনার পিযূষ চাওলা। তার প্রথম বলে কোনো রান নিতে না পারলেও পরের বলেই ওভার বাউন্ডারি হাঁকান। তৃতীয় বলে নেন এক রান। চতুর্থ বলে ব্রেসনান দুই রান জমা করেন স্কোরে। পঞ্চম বলে ব্রেসনান আরও একটি ছক্কা হাঁকালে ম্যাচ আবারও মোড় নেয় ইংল্যান্ডের দিকে। তবে পিযূষ নিজের শেষ বলে ব্রেসনানকে ফিরিয়ে দিলে হতাশা দেখা দেয় ইংলিশ শিবিরে। শেষ ওভারে এন্ড্রু স্ট্রস বাহিনীর জয়ের জন্য দরকার ছিল ১৪ রান। এবার মহেন্দ্র সিং ধোনি বল তুলে দেন মুনাফ প্যাটেলের হাতে। প্রথম দুই বলে সন ৩ রান তুলে নিলেও তৃতীয় বলে শাহজাদ প্যাটেলের বল পাঠিয়ে দেন গ্যালারিতে। ওভারের শেষ ৩ বলে ইংল্যান্ডের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। শ্বাসরুদ্ধকর এমন ম্যাচে শেষ ওভারে গ্যালারিতে নেমে আসে পিনপতন নীরবতা। ব্যাটসম্যান সন ও শেহজাদ দলকে জয় এনে দিতে না পারলেও ভারতের সমান রান তুলে ভারতের জয়ের পথ রুদ্ধ করে দিয়ে পয়েন্ট ভাগ করে মাঠ ছাড়েন। এমন ম্যাচ বহু দিন দেখেনি ক্রিকেট বিশ্ব। তবে ভারতের কাছে এমন হতাশাজনক পারফরমেন্সও আশা করেননি ক্রিকেটবোদ্ধারা।

Saturday, February 19, 2011

আইসিসি ব্যবসাটা ভালোই বোঝে


জিয়াউদ্দিন সাইমুম
বিংশ শতকের শুরুতেই দক্ষিণ আমেরিকার একজন প্রখ্যাত ক্রীড়া সাংবাদিক লিখেছিলেন, ফুটবলের জন্ম ‘সুন্দরের বন্দরে’। কিন্তু ওটা এখন ‘শুল্ক বন্দরে’ নোঙর গেড়েছে। ফুটবলের বাণিজ্যিকায়নের বিপদ তিনি তখনই টের পেয়েছিলেন। কিন্তু ক্রীড়ার পথচলা ঠিকই এগিয়ে গেছে। তবে এটা রীতিমত পণ্যে পরিণত হয়েছে। ফিফা যেমন করে ব্যবসা বুঝে ফেলেছে, আইসিসিও পেছনে থাকতে রাজি হচ্ছে না। তারা তাদের মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের ব্যবসাকে যে কোনো নিরাপদ রাখতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। ছোট দলগুলো খেললে আয় কম হবে। তাই ছোট দলগুলোকে ছেঁটে ফেলতে তারা মরিয়া।
ভারতের কথাই ভাবুন। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারলেই ক্রিকেটের এ পরাশক্তিকে আর কোনো ম্যাচই বিদেশের মাটিতে খেলতে হবে না। এ সুযোগ কিন্তু বিশ্বকাপের বাকি দুটো দেশের জন্য নিশ্চিত করা হয়নি। ভারতের মাটিতে ভারতকে খেলার সুযোগ দিলে বিজ্ঞাপন বাবত যে পরিমাণ ডলার আইসিসির অ্যাকাউন্টে জমা হবে, সেই পরিমাণ ডলারের নিশ্চয়তা বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কার পক্ষে দেয়া মোটেও সম্ভব নয়। বিশেষ করে আইপিএল বিশ্ব ক্রিকেটের নগদপ্রাপ্তি সব হিসাব-নিকাশকে একেবারে পাল্টে দিয়েছে। জাগতিক জ্ঞানটা বেশ টনটনে বলেই আইসিসি সুযোগটা ছাড়বে কেন?
গত শুক্রবার সব ধরনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মিরপুরে আইসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হারুন লোগাত সাংবাদিকদের স্পষ্ট ভাষায় বলে দিয়েছেন, কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে পারলেই ভারতকে আর বিদেশের মাটিতে খেলতে হবে না। নিজেদের মাটিতে তারা বাকি সব ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। অর্থাত্ শিডিউলে পরিবর্তন আসবে।
হারুন লোগাত বিষয়টির বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে এটাও বলেন, কোয়ার্টার ফাইনালে স্বাগতিক দুটি দেশকে একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়, তাহলে ম্যাচটি হবে বিশ্বকাপের আগে যে দেশটি বাছাই বা র্যাংকিংয়ে এগিয়ে ছিল, সেই দেশের হোম গ্রাউন্ডে ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আপাতদৃষ্টিতে এটা আইসিসির নির্দোষ সিদ্ধান্ত হলেও মোটেও পক্ষপাতশূন্য সিদ্ধান্ত নয়। কারণ আইসিসি র্যাংকিংয়ে শ্রীলঙ্কা আর বাংলাদেশের চেয়ে ভারতই এগিয়ে রয়েছে। আইসিসির এই সিদ্ধান্তের সহজ-সরল তরজমা হচ্ছে, প্রাথমিক পর্বের বাধা ডিঙাতে পারলে নকআউট পর্বের ম্যাচ খেলতে ভারতকে আর বিদেশের মাটিতে মোটেও ছুটতে হবে না।
আগের শিডিউল অনুসারে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচগুলো হওয়ার কথা ছিল এভাবে : ‘এ’ গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন বনাম ‘বি’ গ্রুপের চার নম্বর দল (মিরপুর), ‘এ’ গ্রুপের রানার্স আপ বনাম ‘বি’ গ্রুপের তিন নম্বর দল (আহমেদাবাদ), ‘এ’ গ্রুপের তিন নম্বর দল বনাম ‘বি’ গ্রুপের রানার্স-আপ দল (মিরপুর) এবং ‘এ’ গ্রুপের চার নম্বর দল বনাম ‘বি’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল (কলম্বো)।
কিন্তু আইসিসির বাণিজ্যিক সিদ্ধান্তের পর ‘বি’ গ্রুপের যেখানেই থাকুক না কেন, ভারত তার কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলবে আহমেদাবাদে। এক্ষেত্রে আগামী ২৪ মার্চের কোয়ার্টার ফাইনালে ‘বি’ গ্রুপের তৃতীয় স্থান দখলকারী দলটি খেলবে ‘এ’ গ্রুপের রানার্সআপ দলটির বিপক্ষে।
ভারত যদি ‘বি’ গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তাহলে তারা খেলবে ‘এ’ গ্রুপের তিন নম্বর দলের বিপক্ষে। ভারত যদি প্রাথমিক পর্বের ম্যাচে তৃতীয় স্থান দখল করতে না পারে, তাহলেও তারা আহমেদাবাদেই খেলবে। ভারত তাদের সৌভাগ্যের কথাটি বিশ্বকাপে তাদের প্রথম ম্যাচ শুরুর আগেই জেনে গেছে। কিন্তু তাদের প্রতিপক্ষকে এটা জানতে আগামী ২০ মার্চ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
অন্যদিকে ভারতের মুখোমুখি না হতে হলেই কেবল শ্রীলঙ্কা আগামী ২৬ মার্চ নিজেদের মাটিতে শেষ-আটের ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। এক্ষেত্রে ভারত টুর্নামেন্ট শুরুর আগে তাদের র্যাংকিংকে কাজে লাগিয়ে আহমেদাবাদে খেলার সুযোগ পাবে। একইভাবে স্বাগতিক বাংলাদেশও আগামী ২৩ অথবা ২৪ মার্চ বাংলাদেশের মাটিতে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলার সুযোগ পাবে। কিন্তু এই পর্বে তাদের প্রতিপক্ষ যদি ভারত অথবা শ্রীলঙ্কা হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ নিজের মাটিতে ম্যাচটি খেলার সুযোগ পাবে না। আইসিসির ব্যবসায়িক নীতিতে দুর্বল দলের কোনো জায়গা নেই। কারণ বাণিজ্যই যেখানে বড় কথা, সেখানে দুর্বল পৃষ্ঠপোষকতা পাবে কী করে?
হারুন লোগাত এখানেই থামেননি। তিনি সাফ বলে দিয়েছেন, ২০১৫ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে দুর্বল দলগুলো অংশ নেয়ার সুযোগ পাবে না। আগামী বিশ্বকাপে ১৪ দলের পরিবর্তে ১০টি দল খেলবে। তবে টি-২০ বিশ্বকাপে ১২ দলের পরিবর্তে ১৬টি দল খেলবে।

আরও উচ্চতায় শচীন

আর্কাইভ: --

আরও উচ্চতায় শচীন

স্পোর্টস ডেস্ক
ভারতীয় মাস্টার ব্লাস্টার শচীন টেন্ডুলকারের জন্য খুব বেশি রেকর্ড মনে হয় অধরা নেই। একমাত্র ডন ব্রাডম্যানের সে অলঙ্ঘ্য রেকর্ডটি ছাড়া টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেটের প্রায় সবগুলোই তিনি ছুঁয়েছেন। গতকাল তার রেকর্ডের পালকে গাঁথা হলো আরেকটি পালক।
সবচেয়ে বেশিবার একদিনের খেলায় মাঠে নামার রেকর্ডটি নিজের করে নিয়েছেন ভারতের শচীন টেন্ডুলকার। গতকাল শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে দশম বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নেমে এ রেকর্ড গড়েন শচীন।
১৯৮৯ সালের ১৮ ডিসেম্বর গুজরানওয়ালায় পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম একদিনের ম্যাচে মাঠে নামেন তিনি। সেই থেকে এ পর্যন্ত ৪৪৫টি একদিনের ম্যাচে অংশ নেন তিনি। শ্রীলঙ্কার সনাথ জয়াসুরিয়া ১৯৮৯-২০০৯ পর্যন্ত ২০ বছরের ক্যারিয়ারে খেলেন ৪৪৪টি একদিনের ম্যাচ।
পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক ১৯৯১-২০০৭ পর্যন্ত ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৭৮টি একদিনের ম্যাচে অংশ নেন।
পাকিস্তানের আরেক সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ১৯৮৪-২০০৩ পর্যন্ত ১৯ বছরের ক্যারিয়ারে ৩৫৬টি ম্যাচে অংশ নেন। তিনিই সবচেয়ে বেশি একদিনের ম্যাচ খেলা বোলার।
অস্ট্র্রেলিয়ার অধিনায়ক রিকি পন্টিং ১৯৯৫ সালে অভিষেকের পর এ পর্যন্ত খেলেছেন ৩৫২টি একদিনের ম্যাচ।
একদিনের ম্যাচ খেলার তালিকায় আপাতত তার নাম ৫ নম্বরে থাকলেও বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ডটি তার। খেলেছেন ৩৯টি ম্যাচ। রেকর্ডটিতে ভাগ রয়েছে গ্লেন ম্যাকগ্রারও। তিনিও খেলেছেন ৩৯টি ম্যাচ। ৩৮টি করে ম্যাচ খেলেন জয়াসুরিয়া ও ওয়াসিম আকরাম।
গতকালের খেলাটি শচীনের ৩৭তম বিশ্বকাপ ম্যাচ। ৩৫টি করে বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন অরবিন্দ ডি সিলভা ও ইনজামাম। ৩৪টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন ব্রায়ান লারা।
চলতি বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে শচীন দাঁড়ালেন জাভেদ মিয়াঁদাদের পাশে। সর্বাধিক ৬ বিশ্বকাপে অংশ নেয়ার রেকর্ডটি এতদিন বড়েমিয়ার দখলে ছিল। এবার ওই রেকর্ডে ভাগ বসালেন শচীন। এটি তার ষষ্ঠ বিশ্বকাপ।
১৯৭৫ সালে প্রথম বিশ্বকাপ খেলা মিয়াঁদাদ শেষবার অংশ নেন ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপে। ১৯৯২ সালের বিশ্বকাপে প্রথম অংশ নেয়া শচীনের জন্য এটি ৬ষ্ঠ বিশ্বকাপ আসর।
চলতি বিশ্বকাপে শচীন খেলছেন বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারের শুরু থেকে মনের ভেতর পুষে রাখা সে স্বপ্নটা নিয়ে। ’৮৩-র ভারত আর বিশ্বকাপ ট্রফির মুখ দেখেনি। ২০০৩ সালে সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে ছুঁতে ছুঁতেও ছোঁয়া হয়ে ওঠেনি। তবে এবার বিশ্বকাপ জিতে অপূর্ণ সাধটাকে চরিতার্থ করার ইচ্ছে ভারতের এই জীবন্ত কিংবদন্তির।

মাশরাফি যদি থাকতেন!

মাশরাফি যদি থাকতেন!

ইলিয়াস খান
পাকিস্তানি ফাস্ট মিডিয়াম বোলার আকিব জাভেদ এক সময় দুঃখ করে বলেছিলেন, ‘আমার জন্ম হয়েছে ভুল সময়ে’। তার এই খেদোক্তির কারণ ছিল ‘টু ডাব্লিউ’। অর্থাত্ ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুস। এই জুটি থাকায় পুরো ক্যারিয়ারে দলে মোটামুটি আসা-যাওয়ার মধ্যে ছিলেন আকিব জাভেদ। এই ম্যাচে আছেন তো পরের ম্যাচে নেই। কিন্তু বিশ্বের অনেক দলেই তখন জাভেদের মানের বোলার ছিল না। এ কারণেই তিনি ঐ খেদোক্তি করেছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশের মাশরাফি বিন মর্তুজার জন্ম হয়েছিল সঠিক সময়েই। বাংলাদেশ দলে তার অপরিহার্যতাও প্রমাণ করেছেন বার বার। কিন্তু ‘কার পাপে’ কে জানে, ‘নড়াইল এক্সপ্রেসে’র খেলা হলো না এবারের বিশ্বকাপে। কোচ ডেমি সিডন্স বলেছেন, ‘ফিটনেস নেই, তাই মাশরাফিকে দলে রাখা গেল না।’ কিন্তু মাশরাফি বলেছেন, তিনি পুরোপুরি ফিট। এ নিয়ে দু’জনার তর্কযুদ্ধের ছবিও ছাপা হয়েছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়। বিষয়টি অনেকটা ডাক্তার-রোগীর তর্কযুদ্ধের মতো। রোগী বলছেন, আমার পেটে কোনো ব্যথা নেই। ডাক্তার বলছেন, অবশ্যই আছে এবং কুইনাইন খেতে হবে। দল থেকে মাশরাফির বাদ পড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চায়ের কাপে কম ঝড় ওঠেনি। তার জন্মস্থান নড়াইলে হরতাল পর্যন্ত হয়েছে। ‘এই বুঝি দলে ঢুকলেন মাশরাফি’—এমন একটি আশাও ধিকধিক করে জ্বলছিল বেশ কিছুদিন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হলো না।
মাশরাফির জন্য আস্ফাালন থাকলেও অন্তত গত দু’দিন উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আর বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার কারণে ক্রিকেটপাগল মানুষ বিষয়টি একপ্রকার ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু আবার তা চাঙ্গা হয়েছে বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচ দেখে। পেসারদের দৈন্যতা দেখে মনে হয়েছে, ইস, মাশরাফি যদি থাকতেন?
আর মনে পড়বেই বা না কেন? ২০০৭ সালের ১৭ এপ্রিল ক্রিকেটের বরপুত্র ব্রায়ান লারার দেশ ত্রিনিদাদে ভারতের ব্যাটিং লাইন চূর্ণ বিচূর্ণ করে দিয়েছিলেন এই মাশরাফি, বাংলাদেশে এ যাবতকালের সেরা পেসার।
২০০৭ সালে নিজেদের প্রথম ম্যাচে একই দলকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছিল টাইগাররা। চার বছর আগের সেই ম্যাচটি বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মনে এখনও অম্লান। কারণ শক্তিশালী ভারতের বিরুদ্ধে সে দিন ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছিল টাইগাররা। দেশসেরা পেসার মাশরাফি ভারতের বিপক্ষে পাওয়া সেই জয়ে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি একাই তুলে নিয়েছিলেন শেবাগ-শচীনদের চারটি উইকেট।
তিনি ৯.৩ ওভার বল করে দু’টি মেডেনসহ ৩৮ রানের বিপরীতে পেয়েছিলেন চার উইকেট। তার ক্ষুরধার বোলিংয়ের সামনে সেদিন পোর্ট অব স্পেনে অসহায় ছিল ভারতের বিশ্বসেরা ব্যাটিং লাইন। তিনি তুলে নিয়েছিলেন হার্ড হিটার শেবাগ, রবীন উত্থাপ্পা, আগারকার ও মুনাফ প্যাটেলের মতো ব্যাটসম্যানদের। ভারত পুরো ৫০ ওভার খেলতেও পারেনি। তিন বল বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায়। ৪৯.৩ ওভারে করেছিল ১৯১ রান। জবাবে ৯ বল বাকি থাকতেই ১৯২ রান নিয়ে জয় তুলে নিয়েছিল টাইগাররা। এই স্মৃতি রোমন্থন করে গতকাল অনেকেই হা-হুতাশ করেছেন। যে শেবাগকে মাশরাফি মাত্র দু’রানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সাজঘরে, গতকাল সেই শেবাগই করলেন ১৭৫ রান। পিটিয়ে ছাতু বানিয়ে ছেড়েছেন বোলারদের। ঐ ম্যাচে রবিন উত্থাপাকে ৯, আগারকারকে ০ এবং মুনাফ প্যাটেলকে ১৫ রানে আউট করেছিলেন মাশরাফি।
গতকাল বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথে নতুন
বল নিয়ে আক্রমণ শানান শফিউল ইসলাম। কিন্তু এই আক্রমণ ধারালো হয়নি। তিনি সাত ওভারে রান দিয়েছেন ৬৯। উইকেট পেয়েছেন মাত্র একটি। প্রচণ্ড মার খাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সাকিব আর বলই তুলে দেননি শফিউলের হাতে।
ইনজুরির কারণে দলে মাশরাফির ঠাঁই হয়নি বলা হলেও মাশরাফি নিজেকে শতভাগ ফিট মনে করেন। কিন্তু কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্ট তাকে আনফিট বলে বাদ দিয়েছেন মূল স্কোয়াড থেকে। এই বাদ দেয়া কতটা যুক্তিযুক্ত ছিল ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে সেই প্রশ্ন থাকবে দীর্ঘদিন। যেমন মনে থাকবে মাশরাফিহীন টাইগারদের ওপর বিরেন্দর শেবাগ আর বিরাট কোহলির তাণ্ডব।

বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে

ভারতের রান-উত্সবেও ভাটা পড়েনি গ্যালারির লাল-সবুজের উন্মাদনায়

ভারতের রান-উত্সবেও ভাটা পড়েনি গ্যালারির লাল-সবুজের উন্মাদনায়

প্রথম আলো


শেবাগের ১৭৫
 শেবাগের সর্বোচ্চ রান, আগের সর্বোচ্চ ১৪৬ (শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, রাজকোট, ২০০৯)।
 বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ ১৪১, টেন্ডুলকার, ভারত-অস্ট্রেলিয়া, ১৯৯৮।
 মিরপুরে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। আগের সর্বোচ্চ অপরাজিত ১২৯, সালমান বাট, পাকিস্তান-ভারত, ২০০৮।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে ২য় সর্বোচ্চ, সর্বোচ্চ ১৯৪*, চার্লস কভেন্ট্রি, জিম্বাবুয়ে, ২০০৯।
 শেবাগের ১৪তম ওয়ানডে সেঞ্চুরি।
 বিশ্বকাপে শেবাগের ২য় সেঞ্চুরি, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম।

ভারতের ৩৭০

 বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ রান
 বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের সর্বোচ্চ
 বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচের সর্বোচ্চ রান
 ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩য় সর্বোচ্চ
 বাংলাদেশের মাটিতে তিন শ পেরোনো ১৫তম স্কোর।

কোহলির ১০০*

 ওয়ানডেতে ভারতীয় ব্যাটসম্যানের পঞ্চম সেঞ্চুরি।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে কোহলির দ্বিতীয় সেঞ্চুরি (আগেরটিও ছিল মিরপুরে)।

২০৩ রানের জুটি

 শেবাগ-কোহলির ২০৩ রানের জুটি তৃতীয় উইকেটে মিরপুরে সর্বোচ্চ (আগের রেকর্ড ১৩০*, আশরাফুল-নাফিসের, আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে, ২০০৮)।
 বিশ্বকাপে যেকোনো উইকেটে অষ্টম সেরা।
 বিশ্বকাপে তৃতীয় উইকেট জুটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ। সেরা টেন্ডুলকার-দ্রাবিড়ের অপরাজিত ২৩৭ (কেনিয়ার বিপক্ষে, ১৯৯৯)।
 বাংলাদেশের বিপক্ষে যেকোনো জুটিতে ষষ্ঠ সর্বোচ্চ রান।
 বাংলাদেশের মাটিতে ৫ম ও মিরপুরের ৪র্থ সর্বোচ্চ জুটি।

Tuesday, November 30, 2010

আবার ক্রিকেটে ঝুঁকছেন প্রীতি !

মাঝে ছবির কাজ ছেড়ে ক্রিকেট নিয়ে মেতেছিলেন বলিউড অভিনেত্রী প্রীতি জিনতা। সেখানে অবশ্য খুব একটা সুবিধা করতে না পারার কারণে আবার ক্রিকেট ছেড়ে বলিউডের পর্দায় ফেরার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে এসেও প্রীতি খুব একটা সুবিধা করতে পারছেন না। প্রীতিকে নিয়ে বলিউডের প্রযোজকেরাও ছবি করার ব্যাপারে খুব একটা আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। সে হিসেবে প্রীতির হাতে এখন কোনো ছবি নেই বললেই চলে।
বলিউডে রুপালি জগতে ফিরে আসতে ব্যর্থ হয়ে প্রীতি আবারও নিজেকে ক্রিকেট মাঠে ফেরানোর চেষ্টা করছেন। তাই ভারতের ক্রিকেট বোর্ড প্রীতির দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে বাদ দেওয়ার পরও প্রীতি এখন ব্যস্ত সেই ক্রিকেট দলকে মাঠে ফেরানোর চেষ্টায়। প্রীতির দল কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে আবার ফেরানো হবে কি না তা নিয়ে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর যেকোনো দিন মামলাটি উঠতে পারে বলে জানা গেছে।
এদিকে আইপিএলের নিলামের দিনও এগিয়ে আসছে। যদি এবার প্রীতির ক্রিকেট দল বাদ যায়, তাহলে বলিউড ও ক্রিকেট দুকূলই হারাবেন বলে মনে করছেন অনেকেই। তাই বলিউডে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন প্রীতি।

টেন্ডুলকারই এ যুগের ব্রাডম্যান: লারা

মাত্র কয়েক বছর আগেও শচীন টেন্ডুলকার আর ব্রায়ান লারার শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক বেশ ভালোই চালু ছিল ক্রিকেট অঙ্গনে। এখনো মাঝে মাঝে এই বিতর্কটা উঠে এলেও বাস্তবে লারাকে ছাড়িয়ে এখন অনেক দূরে এগিয়ে গেছেন টেন্ডুলকার। ২০০৬ সালে লারা যেখানে টেস্টে ১১ হাজার ৯৫৩ রান নিয়ে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেখানে টেন্ডুলকারের সংগ্রহ এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ২৪০ রান। বেশির ভাগ ব্যাটিং রেকর্ডই নিজের দখলে নিয়েছেন ভারতের এই ব্যাটিং-জিনিয়াস। অনেকেই তাঁকে স্থান দিয়েছে সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান ডন ব্রাডম্যানের পাশে। এবার খোদ ব্রায়ান লারাও বললেন, টেন্ডুলকারই এ যুগের ব্রাডম্যান। তবে দুজনের মধ্যে কোনো তুলনা টানতে রাজি হননি লারা।
টেন্ডুলকার আর ব্রাডম্যান—দুজন ভিন্ন ভিন্ন সময়ে পা রেখেছিলেন ক্রিকেট অঙ্গনে। ক্রিকেটের নিয়ম-কানুন, খেলার ধরন ইত্যাদি অনেক বদলে গেছে বলে এই দুই যুগের তুলনা টানা সম্ভব নয়—এ মন্তব্য করে লারা বলেছেন, ‘আমি অনেক পুরোনো দিনের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি, আর তাঁরা সবাই স্বীকার করেছেন, ব্রাডম্যানও এ সময়ের ক্রিকেটে ৯৯.৯৬ গড়ে রান করতে পারতেন না। এ জন্যই আমার মনে হয় টেন্ডুলকারই আমাদের যুগের ব্রাডম্যান।’
মাত্র ১৬ বছর বয়সে ক্যারিয়ার শুরু করে ২১ বছর ধরে টেন্ডুলকার যেভাবে খেলে যাচ্ছেন, সেটা অন্য অনেকের মতোই বিস্ময়কর মনে হয় ব্রায়ান লারার কাছেও। যতদিন খেলা চালিয়ে যাবেন, ততদিনে টেন্ডুলকার আরও অনেক রেকর্ড নিজের অধীনে নিয়ে আসবেন বলে মন্তব্য করেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই ব্যাটিং কিংবদন্তি।
ব্রাডম্যানের সঙ্গে নিজের এই তুলনার কথা এর আগেও অনেকের মুখেই শুনেছেন টেন্ডুলকার। তবে লারার মতো আরেক ব্যাটিং কিংবদন্তির এই কথাটায় নিশ্চয়ই একটু আলাদা গুরুত্ব দেবেন তিনি!

Monday, October 25, 2010

 সর্বকালের বিশ্ব একাদশে বর্তমানদের মধ্যে শুধু শচীন


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩১৮৪৮ রান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। ৯৫টি সেঞ্চুরি, ১৫১টি ফিফটি। অবিশ্বাস্য! অবিশ্বাস্য!!
কিন্তু কী রহস্য শচীন টেন্ডুলকারের এই সাফল্যের? প্রশ্নটা একটু হাস্যকর হয়ে গেল বোধ হয়। চিত্রকরের ছোঁয়া যেমন থাকে তার তুলিতে, গায়কের যেমন কণ্ঠস্বর; ব্যাটসম্যানের জাদুর ছড়ি তো তার ব্যাটই হবে। কিন্তু সবার ব্যাটে কি জাদু থাকে? থাকে না। ব্যাটকে কথা বলাতে পারেন মাত্র অল্প কজন। টেন্ডুলকার সেই বিরলতমদেরই একজন।
এ বছর টেস্টে ব্র্যাডম্যানীয় গড়ে (৯৭.৬৯) ১২৭০ রান করা টেন্ডুলকারের ব্যাট আবারও আলোচনায়। সেই ব্যাটের রহস্য ভাঙলেন খোদ ব্যাট-নির্মাতা হ্যারি সলোমনস। অস্ট্রেলিয়ার নামী ক্রিকেট-সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান কিংসগ্রুভ স্পোর্টস সেন্টারের কর্ণধারের মতে, টেন্ডুলকারের ব্যাটের কানা অনেক চওড়া। এ কারণে তাঁর ব্যাটটি দেখতে অনেক বড় মনে হয়।
অবশ্য টেন্ডুলকারের ব্যাট এমসিসির আইন মেনেই তৈরি। যে আইনে বলা আছে হাতল বাদে ব্যাটের দৈর্ঘ্য ৩৮ ইঞ্চির বেশি হওয়া যাবে না, ব্যাটের সবচেয়ে চওড়া অংশটিরও প্রস্থ ৪.২৫ ইঞ্চির মধ্যে হতে হবে।
টেন্ডুলকারের ব্যাট যিনি বানান, সেই ব্যক্তির সঙ্গে মাত্রই আলাপের সূত্র ধরে সলোমনস সিডনি মর্নিং হেরাল্ডকে বলেছেন, ইংল্যান্ডের উইলো কাঠ থেকে বানানো টেন্ডুলকারের ব্যাট তুলনামূলকভাবে ওজনে বেশ ভারীও হয়।
আগে টেন্ডুলকার প্রায় ৩ পাউন্ড ওজনের ব্যাট দিয়ে খেলতেন। বিষয়টি তুলনা করে বোঝার জন্য ক্লাইভ লয়েড সবচেয়ে ভালো উদাহরণ। প্রায় ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান কিংবদন্তি খেলতেন ৩ পাউন্ড ৪ আউন্স ওজনের ব্যাট দিয়ে। মাত্র ৫ ফুট ৫ ইঞ্চি উচ্চতার টেন্ডুলকার এখন কম ভারী ব্যাটে খেলেন। তার পরও সেটার ওজন ২ পাউন্ড ১২ আউন্স।
টেন্ডুলকারের ব্যাটের এসব তথ্য পাওয়া কিন্তু মোটেও সহজ নয়। কারণ কে আসলেই টেন্ডুলকারের ব্যাট বানায়—এই প্রশ্ন করা হলে অনেক প্রস্তুতকারককেই পাওয়া যাবে। টেন্ডুলকারের কাছে অজস্র ব্যাট আসে প্রতিদিন। সেসব ব্যাট এই ভারতীয় কিংবদন্তি দিয়ে দেন গরিব শিশুদের। তাঁর মনের মতো ব্যাট বানায় এসজি। ওয়েবসাইট।

kazi-music